ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ফেডারেল-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিশেষ নির্দেশনায় বিএসএফ এই অদ্ভুত কিন্তু কঠোর পদ্ধতির কার্যকারিতা খতিয়ে দেখছে। মূলত যেসব ভৌগোলিক অবস্থানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানেই এই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
পরিকল্পনার মূল ভিত্তি ও প্রেক্ষাপট
গোপন বার্তা: গত ২৬ মার্চ বিএসএফ-এর ইস্টার্ন ও নর্থ-ইস্টার্ন সেক্টর সদর দপ্তরগুলোতে একটি বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নদীপথ ও পাহাড়ি ছড়াগুলোতে অপারেশনাল প্রয়োজনে কুমির বা সাপ মোতায়েন করা যায় কি না, তা নিয়ে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে।
ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার এলাকা এখনো বেড়াহীন। এর মধ্যে ১৭৫ কিলোমিটার এলাকা সম্পূর্ণ নদী ও জলাভূমি হওয়ায় সেখানে স্থায়ী কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করা প্রায় অসম্ভব।
আন্তর্জাতিক তুলনা: যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একসময় মেক্সিকো সীমান্তে রিও গ্র্যান্ডে নদীতে কুমির ছাড়ার কথা বলেছিলেন (যা পরে কৌতুক হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া হয়)। তবে ভারত বর্তমান বাস্তবতায় একে গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করছে।
কেন এই বিকল্প পদ্ধতি? (জনবল ও অবকাঠামো সংকট)
বিএসএফ বর্তমানে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা তাদের এই ভিন্নধর্মী চিন্তা করতে বাধ্য করছে:
কর্মক্ষম জনবলের অভাব: বাহিনীর প্রায় ২.৬৫ লাখ সদস্যের একটি বড় অংশ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে।
শারীরিক সীমাবদ্ধতা: বিএসএফ সদস্যদের প্রায় ২০ শতাংশের বয়স ৪৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এবং উল্লেখযোগ্য একটি অংশ শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট নন।
সীমান্তের দৈর্ঘ্য: বিশাল সীমান্ত এলাকা সার্বক্ষণিক নজরে রাখা বর্তমান জনবল দিয়ে কঠিন হয়ে পড়ছে।
আধুনিকায়ন বনাম প্রাকৃতিক সুরক্ষা
ভারত সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিএসএফ-কে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘ই-বর্ডার’ বা ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর কাজ করছে। তবে কারিগরি ব্যবস্থার পাশাপাশি দুর্গম এলাকাগুলোতে অনুপ্রবেশকারীদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করতে এবং অবৈধ পারাপার শতভাগ বন্ধ করতে এই ‘সরীসৃপ প্রতিরক্ষা’ ব্যবস্থাকে একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত চোরাচালান ও অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা প্রাকৃতিকভাবেই একটি শক্তিশালী প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করবে।