বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা কাউন্সিলের এই প্রথম বৈঠকে ব্যবসায়ীরা দেশের শিল্পায়নের পথে প্রধান বাধা হিসেবে জ্বালানি সংকটকে চিহ্নিত করেছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো বিকল্প নেই।
ব্যবসায়ীদের প্রধান দাবিসমূহ:
বৈঠকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অর্থমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ও দাবি পেশ করেন:
জ্বালানি নিরাপত্তা: কলকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা চেয়েছেন উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ভিসা ও যাতায়াত সহজীকরণ: বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে 'ই-ভিসা' চালু এবং বিমানবন্দরে হয়রানিমুক্ত যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
আর্থিক ও কর সংস্কার: ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর ব্যাপক সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা নির্দিষ্ট কিছু খাতের ওপর করের বোঝা না চাপিয়ে করের আওতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।
রপ্তানি ও লাইসেন্স: মাঝারি পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের রপ্তানিতে উৎসাহিত করতে লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজ করার দাবি তোলা হয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়ন: আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গতি আনতে দ্রুত গভীর সমুদ্রবন্দর কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন শীর্ষ ব্যবসায়ীরা।
সরকারের অবস্থান ও অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রী ধৈর্য সহকারে ব্যবসায়ীদের প্রতিটি সমস্যার কথা শুনেছেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
"সরকার মনে করে বেসরকারি খাতের উন্নয়নই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। আমরা এনবিআর সংস্কার এবং করের আওতা বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করছি যেন সৎ ব্যবসায়ীরা কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন।"
সভার গুরুত্ব
এই বৈঠকের মাধ্যমে সরকার ও দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে একটি আস্থার সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিনিয়োগের বাধাগুলো জানতে চাওয়ায় আগামী বাজেটে এর ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।