প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করায় জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’। শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই সিদ্ধান্তকে জনস্বার্থবিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদার করার লক্ষ্যে প্রণীত সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি উদ্যোগ বাতিলের পথে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ কমিটি এসব অধ্যাদেশ রহিত করতে সংসদে বিল আনার সুপারিশ করেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এছাড়া আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ—যেমন দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি, গুম প্রতিরোধ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালীকরণসহ নানা বিষয়ে জারি করা বিধানগুলো আপাতত বিল আকারে না তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত সময় পর এসব অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
অধিকার মনে করছে, এ ধরনের পদক্ষেপ জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংগঠনটির দাবি, পূর্বে একটি গণভোটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সংস্কারমূলক পদক্ষেপের পক্ষে মত দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই জনমত যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অতীতে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে দুর্বল করা হয়েছিল, যার কারণে বিরোধী মতাবলম্বী ও সাধারণ মানুষ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসতে যে সংস্কারমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা এখন ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সংগঠনটি আরও বলে, গুম প্রতিরোধসহ মানবাধিকার সুরক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপগুলো বাতিল করা হলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে।
সবশেষে, মানবাধিকার ও সুশাসন নিশ্চিত করতে এসব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ দ্রুত আইন হিসেবে পাস করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ‘অধিকার’।