ঢাকা

ইরানে বিপর্যয়, ট্রাম্প-হেগসেথের রাজনৈতিক দর্পচূর্ণ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ইরানের আকাশে এক মাস ধরে নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাজেয় থাকার দাবি করে আসা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক দুই ঘটনায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর রাজনৈতিক ও সামরিক উভয় দিক থেকেই বিষয়টিকে গুরুতর করে তুলেছে।

ঘটনাস্থল ও ক্ষয়ক্ষতি

প্রথম ঘটনায়, একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশসীমায় ধ্বংস হয়। এ বিমানটির দুই বৈমানিকের ভাগ্যে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। জানা গেছে, একজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু অন্যজনের অবস্থান নিশ্চিত নয়।

এরপর গত শুক্রবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি যুদ্ধবিমানে আঘাত হানা হয়। তবে সেই বিমানটির পাইলট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে ইরানের সীমানার বাইরে বিমানটি নিয়ে আসেন এবং পরে নিরাপদে প্যারাসুটে নেমে উদ্ধার হন।

এই দুই ঘটনায় মার্কিন প্রশাসন চেষ্টা করেছে, সামরিক প্রভাবের ছবি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এক মাস ধরে আকাশে ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ এবং ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক আধিপত্য’ দাবি করা প্রশাসনের বক্তব্য স্পষ্টভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

প্রশ্নবিদ্ধ দাবি

গত ৪ মার্চ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, “ইরানের আকাশে খুব শিগগিরই আমাদের পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ইরান কিছুই করতে পারবে না।” একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ দাবি ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার করেছেন। তবে সাম্প্রতিক ধ্বংসের ঘটনা দেখিয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের পূর্বের ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক আকাশসীমা’ দাবি বাস্তবে তেমন স্পষ্ট নয়।

জনগণের প্রতিক্রিয়া ও অর্থনৈতিক প্রভাব

মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে এই যুদ্ধে বিশ্বাস কমে গেছে। যুদ্ধের উদ্দেশ্য এবং প্রধান লক্ষ্যসমূহ বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির সম্ভাব্য বন্ধের কারণে তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপ সাধারণ জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই যুদ্ধের জন্য যে ব্যয় হচ্ছে, তা যুক্তিযুক্ত নয়।

সামরিক সাফল্য বনাম বাস্তবতা

হেগসেথ দাবি করেছেন, গণমাধ্যম যুদ্ধের সামরিক সাফল্যগুলো যথাযথভাবে প্রচার করছে না। তিনি বলেন, “আমরা কোনো স্থলসেনা পাঠানো ছাড়াই ইরানের আকাশ ও জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি।” তবে এক মাস পরে দেখা যাচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি।

সাম্প্রতিক ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ ও ‘অপরাজেয়’ দাবিগুলি কেবল প্রচারণামূলক এবং বাস্তব সামরিক পরিস্থিতি তার সঙ্গে মিলছে না। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ প্রমাণিত হতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স