ঢাকা

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা: ‘বি’ ইউনিটে শীর্ষে মিজান, সর্বনিম্ন মাইনাস ১৬.২৫

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের (মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান) ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬০ শতাংশের কিছু বেশি। সর্বোচ্চ ৮১ দশমিক ৫ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া মিজানুর রহমান। অন্যদিকে সর্বনিম্ন প্রাপ্ত নম্বর মাইনাস ১৬ দশমিক ২৫।

সোমবার দুপুরে ভর্তি পরীক্ষার কোর কমিটির সচিব এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়–এর রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মনজুরুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অংশগ্রহণ ও পাসের পরিসংখ্যান

প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ‘বি’ ইউনিটে মোট আবেদন করেন ৯৩ হাজার ১০২ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ৭৬ হাজার ৭৫৫ জন, যা মোট আবেদনকারীর প্রায় ৮২ শতাংশ।

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩০ বা তার বেশি নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৩০ জন, যা অংশগ্রহণকারীদের ৬০ দশমিক ৫০ শতাংশ। অপরদিকে ৩০ নম্বরের কম পেয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৩০ হাজার ৮৯ জন শিক্ষার্থী, যা প্রায় ৩৯ শতাংশ।

ফলাফলে দেখা যায়, এবারের পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর ৮১ দশমিক ৫। এই নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে অংশ নেওয়া মিজানুর রহমান। অন্যদিকে সর্বনিম্ন প্রাপ্ত নম্বর মাইনাস ১৬ দশমিক ২৫, যা নেগেটিভ মার্কিং পদ্ধতির প্রভাবকে স্পষ্ট করেছে।

খাতা বাতিল ও প্রশাসনিক বিষয়

রোল নম্বর ও পরিচয়পত্র ভরাট–সংক্রান্ত ভুলের কারণে ৩৬ জন শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভর্তি–সংক্রান্ত নির্দেশনায় পরীক্ষার্থীদের তথ্য পূরণে সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়টি আবারও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।

ভর্তি–ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে তাঁদের ব্যক্তিগত ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দক্রম পূরণ করতে হবে। পরবর্তী সময়ে মেধাক্রম ও পছন্দের ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে।

কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

ফলাফল প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়–এর উপাচার্য ও ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার দুই ইউনিট ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। পরবর্তী ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষাও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।”

গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার এ ফলাফলকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ও উৎকণ্ঠা—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই দেখা যাচ্ছে। এখন উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সামনে বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দক্রম নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে পছন্দক্রম পূরণ না করলে পরবর্তী আসন বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স