ঢাকা

তৃণমূলে বিদ্রোহীদের তৎপরতা, কার্যালয় দখল করে সভাপতি ঘোষণা অরূপ রায়কে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পেয়েছে। দলের এক বিদ্রোহী অংশ শুক্রবার কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ‘তৃণমূল ভবন’ দখল করার দাবি করেছে। একই সঙ্গে তারা পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে দলের নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি ঘোষণা করে নতুন ব্যানারও টানিয়েছে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে থাকা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এ পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিদ্রোহীরা নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ বলে দাবি করছে এবং দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়া ফুল’-এর ওপরও নিজেদের অধিকার দাবি করেছে।

দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে ব্যানার পরিবর্তন

শুক্রবার বিকেলে কলকাতার মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন বিদ্রোহী নেতারা। সেখানে আগে থাকা দলীয় ব্যানার সরিয়ে নতুন ব্যানার টানানো হয়।

নতুন ব্যানারে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে অরূপ রায়কে তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি বিধায়ক এবং সংসদ সদস্য বর্তমানে তাদের সঙ্গে রয়েছেন। সেই ভিত্তিতেই তারা নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে দাবি করছে।

নির্বাচন কমিশনের কাছেও দাবি

বিদ্রোহী নেতারা জানিয়েছেন, দলীয় কার্যালয় দখলের আগে বৃহস্পতিবার তাঁরা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন কমিশনের সামনে নিজেদের দাবি উপস্থাপন করেন।

সেখানে তারা জানায়, তারাই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করছে। ফলে দলের নিবন্ধন এবং নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়া ফুল’ তাদের কাছেই থাকা উচিত।

দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে কলকাতায় ফিরে শুক্রবার তারা সরাসরি দলীয় সদর দপ্তরে গিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালায়।

উপস্থিত ছিলেন একাধিক শীর্ষ নেতা

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন আখতারুজ্জামান, ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান, গোলাম রব্বানী, প্রসূণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাসহ বিদ্রোহী শিবিরের একাধিক নেতা।

ওই সময় তৃণমূল ভবনের ভেতরে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাবেক মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তবে বিদ্রোহী নেতারা ভবনে প্রবেশ করার পর তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান বলে জানা গেছে।

‘মমতা থাকবেন উপদেষ্টা’

কার্যালয় দখলের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিদ্রোহী নেতা আখতারুজ্জামান।

তিনি জানান, নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হচ্ছে না। তাঁকে দলের উপদেষ্টা হিসেবে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে মমতার ভাতিজা এবং দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন নেতৃত্বে থাকবেন কি না, সে বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।

আখতারুজ্জামানের ভাষ্য, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের নতুন কমিটি।

কংগ্রেসে যোগ দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে তৃণমূল কাউন্সিলর

এদিকে একই দিনে আরেকটি ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।

কলকাতা পৌর সংস্থার ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর রেহেনা খাতুন দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যালয় বিধান ভবনে যান।

কিন্তু সেখানে উপস্থিত কংগ্রেসের কর্মীরা তাঁর বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন।

রেহেনা খাতুনকে লক্ষ্য করে ‘চোর, চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন তারা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো তৃণমূল নেতাকে কংগ্রেসে নেওয়া উচিত নয়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “তৃণমূলের কোনো দুর্নীতিবাজ নেতাকে কংগ্রেসে নেওয়া হবে না।”

নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা

তৃণমূল ভবন দখলের দাবি, নতুন সভাপতি ঘোষণার উদ্যোগ এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে দল ও প্রতীকের মালিকানা দাবি—সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।

তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি, কার্যালয় দখল কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক-সাংসদের সমর্থনের বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিক কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের মূল নেতৃত্ব বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকেও এসব দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স