ঢাকা

খামেনির শেষকৃত্য: তেহরানে লাখো মানুষের ঢল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা রাজধানী তেহরানে শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ৩৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশটির সর্বোচ্চ পদে থাকা এই নেতার মরদেহ ইতিমধ্যেই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে নিয়ে আসা হয়েছে। দেশজুড়ে জারি থাকা গভীর শোকের মধ্যে এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তেহরানসহ আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ নেতার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান এবং পরবর্তী দাফন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

ইতিহাসের বৃহত্তম জানাজার প্রস্তুতি ও জনসমাগম
ইরানি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে প্রায় দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি এই সংখ্যা স্পর্শ করে, তবে এটি হবে দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম ও ঐতিহাসিক শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান। সকাল থেকেই গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদ ও এর চারপাশের সড়কগুলোতে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ, ধর্মীয় স্কলার এবং সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা কালো পোশাক পরিধান করে সমবেত হতে শুরু করেছেন।

মাশহাদে ইমাম রেজা মাজারে দাফন
তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং প্রথম জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁর মরদেহ বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়া হবে মাশহাদ শহরে। আয়াতুল্লাহ খামেনির নিজ শহর মাশহাদে অবস্থিত পবিত্র ‘ইমাম রেজা মাজারে’ তাঁর দাফন কার্য সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান সরকার। মাশহাদের এই মাজার প্রাঙ্গণেই তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে দেশের এই প্রভাবশালী ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে।

শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যু ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত যুদ্ধ পরিস্থিতির শুরুতে ইরানের ওপর পরিচালিত হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। একই অভিযানে দেশটির আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাও প্রাণ হারান। দীর্ঘ সময় পর তাঁর এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তেহরানের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন ও ধর্মীয় নেতৃত্ব দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখার এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স