ঢাকা

হরমুজ পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প–স্টারমারের ‘কার্যকর পরিকল্পনা’ আলোচনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি “কার্যকর পরিকল্পনা” গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর Downing Street জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz দিয়ে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করাই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল।

হরমুজ নিয়ে কৌশলগত উদ্বেগ

ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র জানান, দুই নেতা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ ও বাধাহীন চলাচল নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত একটি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট এই প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিতর্ক আবারও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

স্টারমারের উপসাগর সফর

ফোনালাপের সময় Keir Starmer উপসাগরীয় অঞ্চলে কূটনৈতিক সফরে ছিলেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি Qatar, Saudi Arabia, Bahrain এবং United Arab Emirates সফর করেন।

এই সফরে তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন বলে জানা গেছে।

টোল ও নৌচলাচল বিতর্ক

স্টারমার এর আগে মন্তব্য করেছিলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর কোনো ধরনের টোল বা মাশুল আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাধীন গতিপথকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে Iran এই প্রণালি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন নীতি বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তেহরান এ পথে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি বা টোল আদায়ের ইঙ্গিত দিয়েছে।

কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরও দাবি করেছে, সংঘাতকালীন সময়ে নির্দিষ্ট কিছু জাহাজ থেকে ইরান টোল আদায় করেছে, যা বৈশ্বিক শিপিং খাতে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। বিশ্বের বড় অংশের তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের বাধা বা ফি আরোপ বৈশ্বিক বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্রাম্প ও স্টারমারের আলোচনাকে সেই প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলো এই অঞ্চলে নৌচলাচল নিরাপদ রাখতে আন্তর্জাতিক সমন্বিত উদ্যোগ বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।

কূটনৈতিক সমন্বয়ের ইঙ্গিত

দুই নেতার ফোনালাপকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা আরও জোরদার হতে পারে।

তথ্যসূত্র: Al Jazeera

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স