সংসদ অধিবেশনে কুয়াকাটার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরে সেখানে একটি বিমানবন্দর নির্মাণের প্রস্তাব করেন সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন। তিনি উল্লেখ করেন, পায়রা বন্দর, নৌ-ঘাঁটি এবং পর্যটন কেন্দ্রের প্রসারে দ্রুতগতির যাতায়াত এখন সময়ের দাবি।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন যে, যেকোনো বড় প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং লাভ-ক্ষতির হিসাবটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো হলো:
অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই: প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, কেবল আবেগ বা চাহিদার ভিত্তিতে বিমানবন্দর করা সমীচীন নয়। যদি সেখানে ফ্লাইট পরিচালনা করে লোকসান হয়, তবে সেই আর্থিক বোঝা সাধারণ জনগণের ওপরই পড়বে।
বেসরকারি খাতের জন্য সুযোগ: কোনো প্রাইভেট কোম্পানি যদি কুয়াকাটায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফ্লাইট পরিচালনা করতে আগ্রহী হয়, তবে সরকার তাদের পাশে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, “কোনো উদ্যোক্তা এগিয়ে এলে সরকার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো (Infrastructure) নির্মাণ করে দেওয়ার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে।”
যাচাই-বাছাইয়ের আবশ্যকতা: কোনো উদ্যোগই যেন মাঝপথে ব্যর্থ না হয়, সেজন্য যথাযথ কারিগরি ও অর্থনৈতিক যাচাই-বাছাইয়ের (Feasibility Study) ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
‘উদ্যোক্তা ও জনগণ—কারো ক্ষতি কাম্য নয়’
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন:
সরকার জনগণের ট্যাক্সের টাকা কোনো অলাভজনক খাতে অপচয় করতে চায় না।
পাশাপাশি কোনো বেসরকারি উদ্যোক্তা বড় বিনিয়োগ করে যেন ব্যর্থ না হন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব।
সারসংক্ষেপ: কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরাসরি সরকারি বিনিয়োগের চেয়ে ‘পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ’ বা বেসরকারি বিনিয়োগকে প্রাধান্য দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
কুয়াকাটার বর্তমান গুরুত্ব
বর্তমানে কুয়াকাটায় পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বিশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ফলে অঞ্চলটি অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার ফলে বেসরকারি এভিয়েশন কোম্পানিগুলো কুয়াকাটাকে ঘিরে নতুন ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করতে উৎসাহিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।