হজরত মুহাম্মদ (সা.)–কে কটূক্তির দায়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মাদারীপুর–১ আসনের Said Uddin Ahmad Hanzala। একই সঙ্গে যারা মহানবী (সা.)–কে শেষ নবী হিসেবে স্বীকার করে না, তাদের অমুসলিম ঘোষণা করার বিধানও আইনে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব দাবি উত্থাপন করেন। বিষয়টি কেন্দ্র করে সংসদে ধর্মীয় অনুভূতি, আইন প্রণয়ন এবং সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।
Jatiya Sangsad–এ দেওয়া বক্তব্যে হানজালা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বারবার এমন ঘটনা ঘটছে যেখানে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করছে। তাঁর ভাষায়, এসব ঘটনায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এবং এ নিয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদ-আন্দোলনের ঘটনাও ঘটে, যাতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
তিনি বলেন, “আমরা বারবার দেখছি, কিছুদিন পরপর কারা যেন এসে আল্লাহর নবীর শানে কটূক্তি করে। নবীকে নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। এর প্রতিবাদে রাস্তাঘাটে আন্দোলন করতে গিয়ে কত মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে।”
এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে কঠোর আইন প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা নবী (সা.)–কে কটূক্তি করে বা অবমাননা করে, তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন প্রণয়ন করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, দেশে এমন কিছু গোষ্ঠী রয়েছে যারা মহানবী (সা.)–কে শেষ নবী হিসেবে স্বীকার করে না, অথচ নিজেদের মুসলমান হিসেবে পরিচয় দেয়। এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাদের অমুসলিম ঘোষণা করার বিধান আইনগতভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান।
হানজালা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এ ধরনের ইস্যুতে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন হয়েছে এবং এখনো তা চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতা রয়েছে, যা রাষ্ট্রীয়ভাবে সমাধান করা জরুরি।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের মাধ্যমে এ বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হতে পারে। তাঁর মতে, রাষ্ট্রীয়ভাবে আইন প্রণয়ন করে এ ধরনের বিতর্কের অবসান ঘটানো উচিত।