জাতীয় সংসদে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য Mohammad Kamal Hossain। তিনি অভিযোগ করেন, বাইরে সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়লেও সংসদের ভেতরে ‘অপচয়’ হচ্ছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিষয়টি সংসদে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
Jatiya Sangsad–এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত জ্বালানি তেলের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকলেও তিনি তেল সংগ্রহ করতে পারেননি। এর পরপরই তিনি সংসদের ভেতরের ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, “তেল শুধু মহান সংসদে। এত পরিমাণ তেল এখানে অপচয় হচ্ছে, বাইরে তেল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”
তার এই বক্তব্যে তিনি দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেন বলে জানান।
একই আলোচনায় তিনি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইস্যুতেও মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গণভোট সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক মন্তব্য এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, যদি গণভোটকে বৈধ ধরা হয়, তাহলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা উচিত। অন্যথায় নির্দিষ্ট সময় পর সংসদের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র সংস্কার। তাঁর ভাষায়, “যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের স্লোগানে রাষ্ট্র মেরামতের কথা ছিল।” সংবিধান শুধু সংশোধন নয়, প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
‘কানকথা’নির্ভর রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে মন্তব্য
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য AKM Fazlul Haque Milon বলেন, প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’ কোনো কথামালার বিষয় নয়, বরং এটি বাস্তবধর্মী রাজনৈতিক কাঠামোর অংশ হওয়া উচিত। তাঁর মতে, এতে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও স্বার্থ জড়িত, যা বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর ও পদ্ধতিগত আলোচনা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলো অনেক সময় “কানকথা” বা গুজবনির্ভর রাজনীতি করে থাকে, যা সমস্যার সমাধানে সহায়ক নয়। বরং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
একই অধিবেশনে বিএনপির সংসদ সদস্য Mohammad Abu Sufian সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণে আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাক্স্বাধীনতা এবং অপরাধমূলক অপপ্রচারের মধ্যে যে সীমারেখা রয়েছে, তা অনেকেই ভুলে যাচ্ছে। এই সীমারেখা নির্ধারণ করে কার্যকর আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।
ফারাক্কা প্রসঙ্গ ও খাল খনন বিপ্লব নিয়ে বক্তব্য
আলোচনায় বিএনপির সংসদ সদস্য Abdus Salam Azad বলেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল ও বিস্তীর্ণ এলাকা মরুকরণের ঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি বলেন, এই প্রেক্ষাপটে সাবেক রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman খাল খনন বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন, যা পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সময়ে ওই খাল খনন উদ্যোগ পুনরায় সামনে আনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যাতে দেশের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা যায়।