কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কের অব্যাহত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সড়কটি দ্রুত প্রশস্ত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য Hasnat Abdullah। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের স্থবিরতার কারণে এই সড়কটি এখন জনজীবনের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে Jatiya Sangsad–এর অধিবেশনে তিনি এই দাবি তুলে ধরেন। মাগরিবের নামাজের বিরতির পর ফ্লোর নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সড়কটির দ্রুত সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, “আমি এলাকায় মুখ দেখাতে পারি না, এলাকার মানুষ আমাকে এখন বেঁধে রাখবে।” তাঁর ভাষায়, কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কে নিয়মিত দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে, যা এখন একটি স্থায়ী সংকটে পরিণত হয়েছে।
‘আমি ভিক্ষা চাই’—তীব্র আবেগঘন বক্তব্য
সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগঘন ভাষায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তিনি এই ইস্যুতে সংসদের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ চান। তিনি বলেন, “আমি ভিক্ষা চাই, এই সংসদের কাছে—এই রাস্তাটি প্রশস্ত করার ব্যবস্থা করুন, যা ১০ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাবে।”
তিনি দাবি করেন, তিনি বক্তব্য দেওয়ার কিছুক্ষণ আগেই ওই মহাসড়কে তিনজন মানুষ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁর মতে, কুমিল্লার দেবিদ্বার এলাকায় এ ধরনের ঘটনা প্রায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চলতি মাসেই কেবল এই সড়কে ২৩ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।
সড়কের সংকীর্ণতা ও অবকাঠামোগত সমস্যা
সংসদ সদস্য বলেন, কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কের প্রস্থ মাত্র ১৮ ফুট, যা একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ রুটের জন্য অপর্যাপ্ত। তাঁর মতে, বাংলাদেশে এমন কোনো সড়ক নেই যা দুটি বিভাগীয় শহরকে সংযুক্ত করলেও এত সংকীর্ণ।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে সিলেট যাওয়ার জন্য এটি একমাত্র কার্যকর সড়ক, যার ওপর প্রায় ১০ লাখ মানুষের যাতায়াত নির্ভরশীল। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এটি ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করলে নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতার কথা বলা হয়। তাঁর দাবি, এই কারণে গত প্রায় ১২ বছর ধরে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি।
সংসদে প্রতিক্রিয়া ও প্রক্রিয়াগত পরামর্শ
বক্তব্যের পর অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার Kaiser Kamal সংসদ সদস্যকে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত বিষয়ে সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ প্রদানই সবচেয়ে উপযুক্ত পদ্ধতি। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বিষয়টির ওপর নিয়ম অনুযায়ী জবাব দেবেন এবং পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা সম্ভব হবে।