ঢাকা

শুরু হলো এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬: নজিরবিহীন নিরাপত্তায় ১৮ লাখ শিক্ষার্থী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
চলতি বছর সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসাসহ ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসছে। গত বছরের ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জনের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ৭১ হাজার ৬২৬ জন। গত ছয় বছরের পরিসংখ্যানে এবারের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বনিম্ন।

পরিসংখ্যানে এবারের পরীক্ষা
মোট পরীক্ষার্থী: ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন (ছাত্র ৯,৩০,৩০৫; ছাত্রী ৯,২৭,০৩৯)।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্র: ৩০,৬৬৬টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩,৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

ঝরে পড়ার হার: দুই বছর আগে প্রায় ১৯ লাখ শিক্ষার্থী নিবন্ধন করলেও নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছে মাত্র ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫১১ জন। অর্থাৎ, প্রায় সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষার্থী মাঝপথে ঝরে পড়েছে বা একই ক্লাসে রয়ে গেছে।

নকলমুক্ত পরিবেশে কঠোর আইন
পরীক্ষার হলে যেকোনো ধরণের জালিয়াতি রুখতে সরকার তিন স্তরের কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:

প্রথম স্তর: কথা বলা বা ক্যালকুলেটরে তথ্য লুকিয়ে রাখলে ওই বছরের পরীক্ষা বাতিল।

দ্বিতীয় স্তর: উত্তরপত্র পাচার বা কক্ষ পরিদর্শককে হুমকি দিলে পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি আরও এক বছর নিষিদ্ধ করা হবে।

তৃতীয় স্তর: প্রক্সি দেওয়া, অস্ত্র প্রদর্শন বা কর্মকর্তাকে আক্রমণ করলে ২ বছরের জন্য সরাসরি বহিষ্কার এবং থানায় নিয়মিত ফৌজদারি মামলা করা হবে।

তদারকি: প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে মাঠে নামানো হয়েছে ভিজিল্যান্স টিম।

পরীক্ষক নিয়োগ ও খাতা মূল্যায়নে পরিবর্তন
সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, এবার খাতা মূল্যায়নে কোনো আপস করা হবে না।

মানবিক নম্বর নয়: মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “মানবিক নম্বর দেওয়ার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। খাতা সঠিকভাবে দেখা হচ্ছে কি না, তা মনিটরিং সেলের মাধ্যমে তদারকি করা হবে।”

স্বচ্ছতা: নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিজের ছাত্রদের জন্য ‘বহিরাগত পরীক্ষক’ হতে পারবেন না।

ব্যবহারিক পরীক্ষা: নিজস্ব ল্যাবরেটরি নেই এমন কেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা একই কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।

সাইবার নজরদারি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ
প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে কড়া সাইবার নজরদারি চালানো হচ্ছে। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘পরীক্ষা ভীতি’ দূর করার বার্তা
শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, “সরকার চায় ছাত্রছাত্রীদের মন থেকে ‘পরীক্ষা ভীতি’ শব্দটি চিরতরে মুছে ফেলতে। অভিভাবকদেরও অনুরোধ করছি, সন্তানদের নিয়ে অকারণে আতঙ্কিত হবেন না।”

আজ সকালে বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে এই মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছে। তাত্ত্বিক পরীক্ষা শেষে আগামী ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স