ঢাকা

চট্টগ্রাম ঘটনার জেরে ঢাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ কর্মসূচি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
চট্টগ্রামের একটি কলেজকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীর ক্যাম্পাস রাজনীতি। এ ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত সোয়া ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি ভিসি চত্বর, সূর্যসেন হল, মধুর ক্যানটিন ও কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকা ঘুরে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতা–কর্মীরা ‘শিক্ষা ও সন্ত্রাস একসাথে চলে না’, ‘শিবিরের সন্ত্রাস ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন। তিনি অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম সিটি কলেজে দেয়াললিখনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো দেয়াললিখন নিয়ে আপত্তি থাকলে পাল্টা দেয়াললিখনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো যেত, কিন্তু তার পরিবর্তে সহিংসতার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে দেশের কোনো ক্যাম্পাসে এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ছাত্রদল তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। ছাত্রশিবিরের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি দাবি করেন, সংগঠনটি ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ পরিচালনা করছে এবং এ নিয়ে তাদের সমালোচনা অব্যাহত থাকবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবির নিয়মিতভাবে নেতিবাচক বয়ান তৈরি করে দেশের ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। তিনি বলেন, কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পেলে ছাত্রদল নীরব থাকবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও শাখা পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম সিটি কলেজ-এ দেয়াললিখনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ‘ছাত্র’ শব্দ মুছে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নেতা–কর্মীদের হাতে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র দেখা গেছে।

ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে উভয় পক্ষই দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামের একটি কলেজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হওয়া দেশের সামগ্রিক ছাত্ররাজনীতির উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। তারা বলছেন, এ ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে ক্যাম্পাসভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সহনশীলতার পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স