ঢাকা

স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রাখতে চায় জামায়াত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে বুধবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছে দলটির একটি প্রতিনিধিদল।

জামায়াতের দাবি, বিদ্যমান আইনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এই সুযোগ বাতিলের কোনো উদ্যোগ সংবিধানে স্বীকৃত নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করবে।

দলটির নেতারা বলছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ করার বিষয়ে ইসির সাম্প্রতিক সুপারিশ গ্রহণযোগ্য নয়। এ সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে দলটি।

নির্বাচন ভবনে জামায়াতের প্রতিনিধিদল

জানা গেছে, বুধবার সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয় জামায়াতের প্রতিনিধিদল।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দীন সরকার এবং শিশির মোহাম্মদ মনির।

বৈঠকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখা ছাড়াও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া মো. সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হবে বলে জানিয়েছিল দলটি।

‘রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ন হবে’

জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে ইসি সচিবালয়ের নিয়োগসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরা হবে।

দলটির নেতারা মনে করছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বাতিলের সুপারিশ নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার সীমিত করবে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা চাকরি ছেড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। কিন্তু ইসির প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা নাগরিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের পেছনে সরকারের কোনো প্রভাব থাকলে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।

আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে ইসির প্রস্তাবের বিষয়ে সম্প্রতি বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে দল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সময়মতো আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে।

সামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও আপত্তি

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিষয় ছাড়াও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে মো. সামসুল আলমের এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত।

দলটির অভিযোগ, অবসরের পর একজন ‘চিহ্নিত দলীয় ব্যক্তিকে’ নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে দলটি।

জামায়াতের ভাষ্য, এই নিয়োগ বাতিল করা প্রয়োজন এবং বিষয়টি তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরবে।

ইসির সুপারিশে কী ছিল

গত ২১ জুলাই নির্বাচন কমিশনের এক সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়।

একই সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সেনা মোতায়েনের আইনি সুযোগ রাখাসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।

তবে নির্বাচন কমিশনের এসব সুপারিশ এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। নিয়ম অনুযায়ী, কমিশন সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। সরকার এসব সুপারিশ গ্রহণ করবে কি না, সে সিদ্ধান্ত সরকারের।

সরকার সুপারিশ গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের প্রয়োজন হবে। সে ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর জাতীয় সংসদে আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে ইসির সুপারিশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে ইসি স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলো এসব প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে মত দিচ্ছে।

জামায়াত বলছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করা হলে তা গণতান্ত্রিক অধিকারকে সংকুচিত করবে। এখন ইসির সঙ্গে বৈঠকের পর এ বিষয়ে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছে দলটি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স