ঢাকা

২০ কোটি রুপি ও ১৫ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার, পশ্চিমবঙ্গে সরকারি গাড়িচালক ঘিরে চাঞ্চল্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে অবসরপ্রাপ্ত এক সরকারি গাড়িচালকের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণ উদ্ধার করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অভিযানে প্রায় ২০ কোটি রুপি নগদ অর্থ এবং ১৫ কেজি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় তিনটার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বীরভূম জেলার মোহাম্মদ বাজার এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত সরকারি গাড়িচালক মিনার মন্ডলের বাড়িতে অভিযান চালায় ইডি। দীর্ঘ প্রায় ১১ ঘণ্টার তল্লাশির পর এসব অর্থ ও স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

অবসরপ্রাপ্ত বাসচালকের বাড়িতে বিপুল সম্পদ

ইডির অভিযানের লক্ষ্য ছিলেন মিনার মন্ডল, যিনি উত্তরবঙ্গ সরকারি বাস পরিবহন সংস্থা নর্থ বেঙ্গল স্টেট ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের (NBSTC) একজন সাবেক বাসচালক। বর্তমানে তিনি অবসর জীবনযাপন করছেন।

তল্লাশির সময় বাড়িতে বিপুলসংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করতে ইডি কর্মকর্তারা টাকা গণনার যন্ত্র নিয়ে যান।

তল্লাশি শেষে উদ্ধার করা অর্থ ও স্বর্ণের বার পাঁচটি ট্রাংকে করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে।

টুলু মন্ডলের সঙ্গে যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে

ইডি সূত্রে জানা গেছে, মিনার মন্ডল পাথর ব্যবসায়ী টুলু মন্ডলের আত্মীয়। টুলু মন্ডল পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মন্ডলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

অভিযানের পর ইডি মিনার মন্ডল ও তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে পাথর ব্যবসায়ী টুলু মন্ডল বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ইডি কর্মকর্তারা উদ্ধার হওয়া অর্থ ও স্বর্ণের উৎস, লেনদেনের ধরন এবং এর সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।

পাথর খাদান নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ

বীরভূম জেলা পাথর শিল্পের জন্য পরিচিত। জেলায় রয়েছে একাধিক পাথর খাদান বা খনি। এসব খাদান থেকে পাথর উত্তোলন ও ব্যবসা ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে।

বিজেপির অভিযোগ, বেআইনিভাবে পাথর উত্তোলন করে এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা-কর্মী বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেছেন। ইডির এই অভিযান সেই অবৈধ অর্থের সন্ধানের অংশ বলে দাবি করেছে বিজেপি।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তদন্তে নতুন তথ্যের অপেক্ষা

ইডির কর্মকর্তারা এখন উদ্ধার হওয়া অর্থ ও স্বর্ণের বৈধ উৎস, সম্পদের মালিকানা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করছেন।

তদন্তে যদি অবৈধ লেনদেন বা অর্থপাচারের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বীরভূমের এই অভিযান পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ সম্পদ ও দুর্নীতিবিরোধী তদন্তের ধারাবাহিকতায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপে ইডি কী তথ্য প্রকাশ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স