জাতীয় সংসদে কার্যকর গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করতে বিরোধী দলের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন মঈন খান। তিনি বলেন, সংসদে ভিন্ন মত ও যুক্তির অবাধ উপস্থাপনই প্রকৃত গণতন্ত্রের ভিত্তি, যা একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে গণতন্ত্রকে পৃথক করে।
রোববার দুপুরে গাজীপুরের ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ–এর নবীনবরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি ২৭তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
সংসদীয় চর্চা ও গণতন্ত্রের ব্যাখ্যা
মঈন খান বলেন, সংসদে বিতর্ক ও মতবিনিময়ই গণতন্ত্রের মূল চর্চা। পৃথিবীর কোনো সমাজে সব মানুষ একই মত বা ভাষায় কথা বলে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ না থাকলে তা গণতন্ত্র নয়, বরং একদলীয় শাসনের প্রতিফলন হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি বলেন, “সংসদে বিরোধী দলকে অবশ্যই কথা বলার সুযোগ দিতে হবে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। তবে আলোচনা হতে হবে যুক্তিনির্ভর ও বাস্তবধর্মী। আবেগনির্ভর বক্তব্য সংসদীয় আলোচনাকে কার্যকর করে না।”
রাজনৈতিক প্রসঙ্গ ও মতাদর্শিক অবস্থান
তিনি আরও বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো বিতর্ক এবং জবাবদিহি। বিরোধী দলের ভূমিকা শুধুমাত্র সমালোচনা নয়, বরং নীতিনির্ধারণে গঠনমূলক অবদান রাখা।
তার মতে, গণতন্ত্র ও একদলীয় শাসনব্যবস্থার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে সংসদ কার্যত তার কার্যকারিতা হারায়।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ
এর আগে অনুষ্ঠিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মঈন খান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, চিকিৎসা পেশা শুধু পেশা নয়, এটি মানবসেবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে চিকিৎসক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ এ এস এম ইকবাল হোসেন চৌধুরী। এছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মুবিন খানসহ বিভিন্ন অতিথি ও কর্মকর্তা বক্তব্য দেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুনিরা আজিম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মুবিন খান এবং মেডিকেল কলেজের পরিচালক কর্নেল সাজ্জাদ আহমেদ এ কে খান জিলানী।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস পরিবেশ
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১৩০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৫ জন বিদেশি শিক্ষার্থী, যারা ভারত, নেপাল ও কাশ্মীরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন, যা পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির একটি অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়।
শিক্ষা ও রাজনৈতিক বার্তার সমন্বয়
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অনুষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক ও শিক্ষাবিষয়ক বক্তব্য একত্রে উপস্থাপন সমাজে গণতন্ত্র, শিক্ষা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। বিশেষ করে সংসদীয় গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনাগুলো চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।