ঢাকা

তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছে: সুকান্ত মজুমদার, মমতাকে নিয়ে কড়া মন্তব্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন চরমে পৌঁছেছে। একদিকে ক্ষমতাসীন দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মীদের উদ্দেশে আশাবাদ ও লড়াইয়ের বার্তা দিচ্ছেন, অন্যদিকে বিরোধী দল সুকান্ত মজুমদার দাবি করছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং এটি “বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক বিজয়”।

সোমবার দুপুরে এক ভিডিও বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, গণনা কেন্দ্রগুলোতে এজেন্টদের অবস্থান না ছাড়ার নির্দেশ দেন এবং অভিযোগ করেন যে নির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে ভোট গণনা প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলার চেষ্টা চলছে। তার ভাষায়, কিছু এলাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে গণনা বিলম্বিত করা হচ্ছে এবং ফলাফল ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনের একটি অংশ তৃণমূল কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং ভোট প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল একাধিক আসনে এগিয়ে থাকলেও সেসব ফল প্রকাশে বিলম্ব করা হচ্ছে।

ভিডিও বার্তায় মমতা কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “মন খারাপ করার কিছু নেই। শেষ পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। সূর্যাস্তের পর আমরা জয়ের দিকে এগোব।” তিনি দলীয় সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চূড়ান্ত ফল না আসা পর্যন্ত মাঠে থাকতে হবে।

অন্যদিকে, ভোট গণনার প্রবণতা নিয়ে আশাবাদী অবস্থান নিয়েছে বিজেপি শিবির। সুকান্ত মজুমদার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, বর্তমান গণনা প্রবণতা অনুযায়ী তৃণমূল বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছে এবং বিজেপি জনগণের সমর্থনে এগিয়ে রয়েছে। তাঁর দাবি, “তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছে।”

ভারতের গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সোমবার দুপুর পর্যন্ত ভোট গণনার প্রবণতায় বিজেপি এগিয়ে ছিল ১৯৩টি আসনে, যেখানে তৃণমূল এগিয়ে ছিল ৯৬টি আসনে। যদিও এই সংখ্যা চূড়ান্ত ফল নয়, তবে তা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণনা শুরুর পর থেকেই দুই শিবিরের বিপরীতমুখী বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। মমতার পক্ষ থেকে যেখানে নির্বাচনী অনিয়ম ও প্রশাসনিক পক্ষপাতের অভিযোগ উঠছে, সেখানে বিজেপি শিবির ফলাফলকে “জনরায়ের প্রতিফলন” হিসেবে দেখছে।

এ অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স