বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন সামরিক ও মানবিক উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই উদ্যোগের নাম দিয়েছেন “প্রজেক্ট ফ্রিডম”, যার লক্ষ্য সংঘাতের বাইরে থাকা দেশগুলোর আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে সরে যেতে সহায়তা করা।
ট্রাম্প নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের স্থানীয় সময় অনুযায়ী সোমবার সকালে এই অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এটি একটি মানবিক উদ্যোগ, যার মাধ্যমে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হবে।
সামরিক সমর্থনে যুক্ত হচ্ছে সেন্টকম
এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানায়, তারা “প্রজেক্ট ফ্রিডম” বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতা দেবে। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে প্রায় ১৫ হাজার সেনা অংশ নেবে। পাশাপাশি মোতায়েন করা হবে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষম ডেস্ট্রয়ার এবং শতাধিক যুদ্ধবিমান।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, “হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।”
কৌশলগত জলপথে উত্তেজনা
হরমুজ প্রণালি বিশ্বজুড়ে তেল ও বাণিজ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই সামরিক উদ্যোগ অঞ্চলটিতে চলমান অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিপিং রুট ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ট্রাম্পের অবস্থান ও হুঁশিয়ারি
ট্রাম্প তার পোস্টে দাবি করেন, আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্যই উপকারী হবে। তিনি একে “মানবিক দায়িত্ব” হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে একই সঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন। ট্রাম্প বলেন, এই অভিযানে কেউ বাধা দিলে তাকে “কঠোরভাবে মোকাবিলা” করা হবে। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি কেবল নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকেও প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে তেল পরিবহন ও শিপিং খাতে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং আল জাজিরা–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বিভিন্ন দেশ এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
উত্তেজনার নতুন অধ্যায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, “প্রজেক্ট ফ্রিডম” যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নজর এখন হরমুজ প্রণালির দিকে—যেখানে সামরিক প্রস্তুতি, কূটনৈতিক উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বার্থ একসঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।