রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর-এ ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত ঘটনায় নিহতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারা সহায়তা করেছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘শাপলা গণহত্যা থেকে জুলাই: মানবতাবিরোধী অপরাধ, ঐতিহাসিক দায়, বিচার এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ২০১৩ সালের ৫ মে ঘটনাটির ১৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।
‘সবচেয়ে কম আলোচিত শহীদ’—আখতার হোসেন
আখতার হোসেন বলেন, ৫ মে নিহত ব্যক্তিরা দেশের ইতিহাসে “সবচেয়ে কম আলোচিত শহীদদের” মধ্যে রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে তাদের স্মরণ করার সুযোগও দেওয়া হয়নি।
“যে পরিবারগুলো এই ঘটনার কথা প্রকাশ করেছে, তাদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ ও নিপীড়ন চালানো হয়েছে,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “গণহত্যায় যারা মাস্টারমাইন্ড ছিল, তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই হত্যাযজ্ঞকে সমর্থন দিয়েছে, তাদেরও জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে।”
রাজনৈতিক সমালোচনা ও মানবাধিকার প্রসঙ্গ
আলোচনা সভায় ক্ষমতাসীন দলকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘমেয়াদি শাসনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর ওপর দমন–পীড়নের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তবে একই সঙ্গে তিনি দেশে ধর্মবিদ্বেষ বা উগ্রপন্থার রাজনীতি দেখতে চান না বলেও উল্লেখ করেন।
“মানুষ যেন তার মত প্রকাশ করতে পারে এবং সেই কারণে যেন কোনো ধরনের নিপীড়নের শিকার না হয়—এটা নিশ্চিত করতে হবে,”—বলেন তিনি।
অন্যান্য বক্তাদের বক্তব্য
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে ‘রাজাকার’ বা ‘মৌলবাদী’ তকমা ব্যবহার করা হয়েছে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় অতীতের সব ধরনের অবিচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর মতে, শাপলা চত্বরের ঘটনা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনারও যথাযথ স্বীকৃতি ও বিচার প্রয়োজন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আলী আহসান জোনায়েদ, তারেক রেজা, মাওলানা আশরাফ মাহদি এবং মাওলানা ফখরুল ইসলামসহ আরও অনেকে।
প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত ও আলোচিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এই ঘটনাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে থাকে, যা এখনো জনমনে বিতর্কের বিষয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সংবেদনশীল ঘটনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্যপ্রকাশ এবং বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর হতে পারে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
শাপলা চত্বরের ঘটনায় নিহতদের স্বীকৃতি ও বিচার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা সামনে এসেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, সংশ্লিষ্টদের মতে—ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং ঐতিহাসিক সত্য উদ্ঘাটনের মধ্য দিয়েই কেবল এ ধরনের ঘটনার টেকসই সমাধান সম্ভব।