ঢাকা

এপস্টিনের মৃত্যুর আগে লেখা নোটে কী বলা হয়েছিল, খতিয়ে দেখছে রয়টার্স

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত ধনকুবের জেফরি এপস্টিনের মৃত্যুকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলা রহস্য ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি আদালতে প্রকাশিত নথি। ফেডারেল এক বিচারক সম্প্রতি এমন একটি হাতে লেখা নথি প্রকাশ করেছেন, যেটিকে এপস্টিনের কথিত ‘আত্মহত্যার নোট’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

নোটে একটি উল্লেখযোগ্য বাক্য রয়েছে—“নিজের বিদায়ের সময় বেছে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া সত্যিই একধরনের সৌভাগ্য।”

বিচারকের নির্দেশে নথি প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক নথিটি জনসমক্ষে প্রকাশ করেন। Reuters–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারক মনে করেন নথিটি গোপন রাখার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই এবং জনস্বার্থে এটি প্রকাশ করা উচিত।

নথিটি প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের কেনেথ কারাস। তিনি জানান, কোনো পক্ষই এটি গোপন রাখার মতো যথেষ্ট কারণ উপস্থাপন করতে পারেনি। যদিও তিনি স্পষ্ট করেছেন, নথিটির সত্যতা বা এটি কীভাবে তদন্তকারীদের হাতে এসেছে—তা তিনি যাচাই করেননি।

নোটের উৎস ও প্রেক্ষাপট

নথিটি মূলত একটি হলুদ ‘লিগ্যাল প্যাডে’ হাতে লেখা বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। এটি আদালতে জমা দেন দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নিকোলাস টার্টাগ্লিওনের আইনজীবীরা।

টার্টাগ্লিওন ও এপস্টিন ২০১৯ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটান কারাগারে একই সেলে কিছুদিন বন্দী ছিলেন। অভিযোগ, ওই সময়েই নোটটি সেই সেলে ছিল।

নোটে কী লেখা ছিল

আদালতের নথিতে প্রকাশিত অংশ অনুযায়ী, নোটে এপস্টিন লিখেছিলেন—

“তারা এক মাস ধরে আমাকে নিয়ে তদন্ত করছে—কিছুই পায়নি! তারপরও ১৫ বছরের পুরোনো অভিযোগ আনা হয়েছে।”

এ ছাড়া আলোচিত আরেকটি লাইনে লেখা ছিল—

“নিজের বিদায়ের সময় বেছে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া সত্যিই একধরনের সৌভাগ্য।”

এই বাক্যটি নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে, কারণ এটি এপস্টিনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন ব্যাখ্যা ও প্রশ্ন তৈরি করছে।

এপস্টিনের মামলা ও মৃত্যু

জেফরি এপস্টিন ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর সঙ্গে যৌনকর্মের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন এবং বিতর্কিত একটি চুক্তির মাধ্যমে স্বল্প মেয়াদে সাজা ভোগ করেন।

পরে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। এবার তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন পাচার ও নির্যাতনের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন।

একই বছরের আগস্টে ম্যানহাটান কারাগারে তাঁর সেল থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করে। তবে সেই সময় থেকেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচলিত আছে।

নোট ঘিরে আদালতের অবস্থান

বিচারক কারাস তার রায়ে বলেন, জনস্বার্থের কারণে নথিটি গোপন রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এপস্টিন মারা গেছেন এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে ব্যাপক জনআলোচনার অংশ হয়ে গেছে।

তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, আদালত নথিটির সত্যতা বা এর উৎস যাচাই করেনি। অর্থাৎ, এটি প্রকৃতপক্ষে এপস্টিনের লেখা কি না, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই।

কারা নথিটি খুঁজে পায়

দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নিকোলাস টার্টাগ্লিওন দাবি করেন, তিনি কারাগারে থাকাকালে বইয়ের ভেতর নথিটি দেখতে পান। তিনি পরবর্তীতে আদালতে সাক্ষ্যেও এই নথির কথা উল্লেখ করেন।

টার্টাগ্লিওন বর্তমানে একাধিক হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন।

তদন্ত ও বিতর্ক

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নথিটি কখনোই ফেডারেল তদন্তকারীরা দেখেননি এবং বিচার বিভাগ এপস্টিন সংক্রান্ত বিপুল নথির মধ্যেও এটি অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

এতে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—এই নথি কতটা বিশ্বাসযোগ্য এবং এটি কেন আগে প্রকাশ হয়নি।

পুনরায় আলোচনায় এপস্টিন রহস্য

এপস্টিনের মৃত্যু নিয়ে এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। নতুন এই নথি প্রকাশ সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। বিশেষ করে নোটের ভাষা এবং প্রেক্ষাপটকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে বিচার বিভাগ ও আদালত এখনো স্পষ্টভাবে বলছে, নথিটির সত্যতা নির্ধারণের কোনো প্রমাণ তারা উপস্থাপন করেনি।

সব মিলিয়ে, এপস্টিনের মৃত্যু ঘিরে পুরোনো প্রশ্নগুলোর সঙ্গে নতুন এই নথি যুক্ত হয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে, যা ভবিষ্যতেও আলোচনায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স