যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ) বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁরা দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়টির পিএইচডি পর্যায়ের গবেষক ছিলেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাম্পা বে ২৮–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৮ মে (স্থানীয় সময় শুক্রবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তকালীন সমাবর্তনে তাঁদের এই সম্মাননা প্রদান করা হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠানটি হবে পরদিন শনিবার।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমাবর্তন অনুষ্ঠানে লিমন ও বৃষ্টির স্মরণে দুটি আসন খালি রাখা হবে। পাশাপাশি তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্তকে “শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও মানবিক সহমর্মিতার প্রতীক” হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কনস্যুলেটে আনুষ্ঠানিক চিঠি
মঙ্গলবার ইউএসএফ কর্তৃপক্ষ ফ্লোরিডার মায়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে মরণোত্তর ডিগ্রি প্রদানের বিষয়টি জানায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস।
চিঠিতে কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধিকে সমাবর্তনে উপস্থিত থেকে নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ হয়ে ডিগ্রি গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে একজন প্রতিনিধিকে অনুষ্ঠানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গবেষণায় ছিলেন দুই মেধাবী শিক্ষার্থী
জামিল আহমেদ লিমন (২৭) ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ডক্টরাল গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।
তাঁরা দুজনই উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন।
গত ১৬ এপ্রিল তাঁরা নিখোঁজ হন। পরে তাঁদের এক সহপাঠীর মাধ্যমে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে নিশ্চিত করে যে দুজনই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার রুমমেট
ঘটনার তদন্তে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও পরিস্থিতি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
ক্যাম্পাসে শোক ও শূন্যতা
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে ক্যাম্পাসজুড়ে শ্রদ্ধা ও শোকের প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এটিকে দুই মেধাবী গবেষকের প্রতি “চূড়ান্ত সম্মান” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁদের জন্য আসন খালি রাখা, নীরবতা পালন এবং মরণোত্তর ডিগ্রি প্রদান—সব মিলিয়ে পুরো ক্যাম্পাসে একটি গভীর শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষাঙ্গনে বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু আবারও আলোচনায় এসেছে, যা প্রবাসী শিক্ষার্থী নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।