ঢাকা

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় নতুন নিষেধাজ্ঞা, ইইউর তালিকায় বসতি স্থাপনকারী ও হামাস নেতারা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারী এবং ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন Hamas–এর শীর্ষ নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে European Union (ইইউ)। সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একটি সমন্বিত ‘নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ’ অনুমোদনের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্র।

সোমবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এ প্রক্রিয়ায় অবশেষে অগ্রগতি আসায় ইউরোপীয় কূটনীতিতে নতুন গতিশীলতা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বসতি স্থাপনকারী ও সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় পশ্চিম তীরে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের লক্ষ্য করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনজন ব্যক্তি এবং চারটি বসতি স্থাপনকারী সংগঠনকে তালিকাভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। তবে তাদের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ইইউ দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এবার প্রথমবারের মতো কিছু বসতি স্থাপনকারী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার সিদ্ধান্তে পৌঁছাল ব্রাসেলস।

ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান Kaja Kallas সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে এখন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের উপযুক্ত সময় এসেছে।

রাজনৈতিক বাধা ও পরিবর্তিত অবস্থান

এর আগে ইইউভুক্ত হাঙ্গেরির অবস্থানের কারণে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন আটকে ছিল বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়। দেশটির নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর বিষয়টি আবারও গতি পায় এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা সহজ হয়।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী Jean-Noel Barrot সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পশ্চিম তীরে চরমপন্থা ও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত কিছু ইসরায়েলি সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি ছিল। তিনি আরও বলেন, এসব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন।

ইসরায়েলের কঠোর প্রতিক্রিয়া

ইইউর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে Israel। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী Gideon Sa'ar বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইসরায়েলি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যার কোনো ভিত্তি নেই।

ইসরায়েলের কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী Itamar Ben-Gvir ইইউকে ‘ইহুদি-বিরোধী’ বলেও সমালোচনা করেছেন।

হামাস নেতৃত্বও তালিকায়

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইইউ হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপে একমত হয়েছে। এর পেছনে যুক্তি হিসেবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৪০ জনকে জিম্মি করা হয়।

এ বিষয়ে Hamas–এর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইইউর সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিক ভণ্ডামি ও পক্ষপাতদুষ্টতা’ বলে মন্তব্য করেছেন।

কূটনৈতিক ভারসাম্যের নতুন চাপ

বিশ্লেষকদের মতে, একই সঙ্গে বসতি স্থাপনকারী ও হামাস নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত ইইউর মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে একটি জটিল ভারসাম্যের প্রতিফলন। একদিকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নীতির সমালোচনা, অন্যদিকে হামাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান—এই দ্বৈত কৌশলই ইইউর বর্তমান অবস্থানকে নির্দেশ করছে।

ইইউর এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স