এএফপি, ওয়াশিংটন
একে অপরের বিরুদ্ধে চালানো সামরিক হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) কাতারের রাজধানী দোহায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। আলোচনায় বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও চলাচল নিয়ে বিরোধ নিরসনের চেষ্টা করা হবে বলে জানা গেছে।
যুদ্ধ বন্ধের পথে নতুন উদ্যোগ
দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর গত ১৭ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। ওই সমঝোতার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পথ তৈরি হয় এবং কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত বন্ধের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
সমঝোতার আওতায় ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে সুইজারল্যান্ডে আলোচনা শুরু করেছিল ওয়াশিংটন ও তেহরান।
তবে এই উদ্যোগের মধ্যেই পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আলোচনার সময়ই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালায়। এতে যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা
দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে হরমুজ প্রণালি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য পরিবহন করা হয়। সামরিক উত্তেজনার কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ পথ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান।
অন্যদিকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ শিথিল করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেওয়ার কথা রয়েছে।
‘সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত’
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, দুই পক্ষই সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরেকজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আপাতত উভয় পক্ষ সংঘাত থেকে সরে আসবে। এর ফলে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা এবং আলোচনার বিষয়ে জানেন এমন আরেকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, মঙ্গলবার কাতারে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকেও ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা একই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুই পক্ষ এখন আর সংঘাতে জড়াবে না এবং বিস্তারিত আলোচনার জন্য দোহার বৈঠকে অংশ নিতে সম্মত হয়েছে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিও অব্যাহত
তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন।
এর আগে শনিবার ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি আবার হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপে ফিরে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে যদি আবার যুদ্ধে ফিরতে হয়, তাহলে ইরানের অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের পরিণতি হতে পারে।
আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমানোর এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়।
অতীতেও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে তা বারবার বাধার মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এএফপি। তবে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।