ঢাকা

বেইজিংয়ে ট্রাম্প–সি বৈঠক শুরু, আলোচনায় কী থাকবে—নজর বিবিসি রিপোর্টে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
Donald Trump-এর চীন সফরের অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানী বেইজিংয়ের Great Hall of the People-এ চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে চীন সফরের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সর্বশেষ তিনি ২০১৭ সালে প্রথম মেয়াদে চীন সফর করেছিলেন।

বাণিজ্য বিরোধ কমানোই প্রধান অগ্রাধিকার

বৈঠকের আলোচ্যসূচির শীর্ষে রয়েছে দীর্ঘদিনের যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্য বিরোধ প্রশমনের বিষয়টি। গত অক্টোবর মাসে দুই দেশ বাণিজ্য উত্তেজনা কমাতে একটি সাময়িক সমঝোতায় পৌঁছায়, যার মেয়াদ আগামী নভেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। ওই সমঝোতার আওতায় উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি শুল্ক বৃদ্ধি স্থগিত রেখেছে।

বিবিসির এশিয়া বিজনেস প্রতিনিধি সুরঞ্জনা তিওয়ারির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বৈঠকে এই সমঝোতা আরও দীর্ঘায়িত করার পাশাপাশি বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়ে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার আলোচনা হতে পারে।

চীনের আমদানি বাড়ানোর ইঙ্গিত

বিশ্লেষকদের মতে, চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি বাড়ানোর বিষয়ে নতুন প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব খাতকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘ফাইভ বি’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, সেগুলো হলো—

বোয়িং উড়োজাহাজ
গরুর মাংস
সয়াবিন

এ ছাড়া ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য দুই দেশের বাণিজ্য বোর্ড ও বিনিয়োগ বোর্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রযুক্তি, শুল্ক ও তাইওয়ান—‘থ্রি টিজ’ ইস্যু

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বৈঠকে তিনটি বড় ইস্যুতে আলোচনা গুরুত্ব পেতে পারে, যেগুলোকে ‘থ্রি টিজ’ বলা হচ্ছে—

শুল্ক (Tariffs)
প্রযুক্তি (Technology)
তাইওয়ান (Taiwan)

Taiwan ইস্যুটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র এর বিরোধিতা করে আসছে, যা দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতাদের উপস্থিতি

ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল চীন সফরে গেছেন। বৈঠকে তাদের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—

Tim Cook
Elon Musk
Boeing-এর সিইও কেলি অর্টবার্গ

বিশ্লেষকদের মতে, এই উপস্থিতি বৈঠককে শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং সরাসরি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যকেন্দ্রিক আলোচনায় রূপ দিয়েছে।

নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিও আলোচনায়

বৈঠকে দুই নেতা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুতেও আলোচনা করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে—

ইরান–সম্পর্কিত চলমান সংঘাত
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ
সামুদ্রিক নিরাপত্তা
হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব

বিশেষ করে বৈশ্বিক তেল ও এলএনজি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিয়ে দুই দেশের অবস্থান আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনে ট্রাম্পকে লালগালিচা সংবর্ধনা

বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর Donald Trump-কে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট Han Zhengসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা।

বিমানবন্দর ছাড়ার আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আমরাই দুই পরাশক্তি। সামরিক শক্তির দিক থেকে আমরাই পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ।”

বৈঠকের তাৎপর্য

বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক শুধু দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা—এই তিন ক্ষেত্রেই যদি সমঝোতা এগোয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স