ঢাকা

মেগা প্রকল্পের নেপথ্য কারণ ও প্রয়োজনীয়তা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
পদ্মা নদীর অববাহিকায় কৃষি, নদী শাসন এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার দাবিটি কয়েক দশকের পুরনো। ১৯৬০-এর দশক থেকেই ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় একটি ব্যারেজ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল। ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালু হওয়ার পর থেকে শুকনো মৌসুমে পদ্মা ও এর শাখা নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। এর ফলে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মরুকরণ প্রক্রিয়া রোধ এবং লোনা পানির অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পদ্মা ব্যারেজ এখন সময়ের দাবি। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করে।

উপকারভোগী ও বাস্তবায়নের রূপরেখা
বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী জানান, এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। প্রাথমিকভাবে এর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছর। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ সরাসরি এর সুফল ভোগ করবেন। এর ফলে সেচ সুবিধার প্রসার ঘটবে, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা পাবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব সূচিত হবে।

কূটনৈতিক অবস্থান ও গঙ্গা পানি চুক্তি
পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ নিয়ে ভারতের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে কি না—গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, এটি বাংলাদেশের একটি সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন প্রকল্প। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের কারিগরি দল নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। সরকার মনে করে, দেশের স্বার্থ রক্ষা করে নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রকল্প সম্পন্ন করা সম্ভব।

কাজ শুরুর সময়সীমা ও বাজেট বরাদ্দ
মন্ত্রী জানান, আগামী জুন মাসে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণার পরপরই পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ নিশ্চিত করেছে যাতে কোনো প্রকার বিলম্ব ছাড়াই নির্মাণ কাজ এগিয়ে নেওয়া যায়।

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের এই অনুমোদনকে দেশের কৃষি ও পরিবেশগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ব্যারেজ কেবল পানির সংকটের সমাধান করবে না, বরং একটি বড় অঞ্চলের সামগ্রিক বাস্তুসংস্থানকে পুনরুজ্জীবিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স