ঢাকা

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর ‘গোপন সফর’ দাবি ভিত্তিহীন: আমিরাত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ইরান যুদ্ধকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ‘গোপন সফর’ করেছেন বলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইউএই। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি: যুদ্ধকালীন ‘গোপন বৈঠক’

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (PMO) এক বিবৃতিতে দাবি করে, চলমান সংঘাত—যাকে তারা ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে উল্লেখ করেছে—এর মধ্যেই নেতানিয়াহু গোপনে আবুধাবি সফর করেন এবং সেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই সফরের লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সামরিক সমন্বয় আরও জোরদার করা। ইসরায়েলি পক্ষের দাবি, এই বৈঠকের মাধ্যমে সম্পর্কের ক্ষেত্রে “ঐতিহাসিক অগ্রগতি” হয়েছে।

আমিরাতের কঠোর প্রতিক্রিয়া: ‘ভিত্তিহীন দাবি’

ইসরায়েলের এ দাবিকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, নেতানিয়াহুর কোনো ধরনের গোপন সফর বা ইসরায়েলি সামরিক প্রতিনিধিদল গ্রহণের খবর “সঠিক নয়”।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক স্বচ্ছ এবং আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর আওতায় পরিচালিত হয়। এর বাইরে কোনো অঘোষিত সফর, গোপন চুক্তি বা অনানুষ্ঠানিক সামরিক সমন্বয়ের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

রয়টার্সের প্রতিবেদন: আগেই হয়েছিল বৈঠক?

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে গত ২৬ মার্চ নেতানিয়াহু ও শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ (এমবিজেড) এর মধ্যে একটি বৈঠক হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সামরিক ও কৌশলগত সমন্বয় নিয়েই মূলত আলোচনা হয়।

তবে ইসরায়েলি দপ্তরের সাম্প্রতিক দাবির পর এই বৈঠককে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও আঞ্চলিক উত্তেজনা

এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে বলে দাবি করা হয়। উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতও শুরুতেই ইরানি হামলার ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

‘আয়রন ডোম’ ও সামরিক সহায়তা বিতর্ক

ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি দাবি করেছেন, যুদ্ধের এক পর্যায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরায়েল তাদের ‘আয়রন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছিল। এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সহযোগিতা ও গোপন সমন্বয়ের প্রশ্ন আরও জোরালো করেছে।

ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের সঙ্গে যেসব দেশ সহযোগিতা করছে, তাদের “জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে”।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এই দাবি ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার আগেই পাওয়া তথ্যকে প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেছে।

আরাগচির ভাষায়, “ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে শত্রুতায় অংশ নেওয়া একটি বোকামিপূর্ণ জুয়া। যারা ইসরায়েলের সঙ্গে আঁতাত করছে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।”

আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন চাপ

নেতানিয়াহুর কথিত ‘গোপন সফর’ ঘিরে ইসরায়েল, আমিরাত ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর কূটনৈতিক ভারসাম্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

বর্তমানে ইসরায়েল-আমিরাত সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাভাবিক থাকলেও সামরিক সহযোগিতা ও যুদ্ধকালীন সমন্বয় নিয়ে ওঠা এসব দাবি আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সন্দেহ ও চাপ সৃষ্টি করছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স