ঢাকা

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে রবীন্দ্র–নজরুল জয়ন্তী: সংস্কৃতিচর্চায় শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির দুই মহীরুহ—বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে রাজধানীর Presidency University-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘রবীন্দ্র–নজরুল জয়ন্তী ২০২৬’। সাহিত্য, সংগীত ও আবৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তুলে ধরেন মানবতা, সাম্য, দ্রোহ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অনন্য সমন্বয়।

বিশ্বকবির মানবতাবাদী দর্শন এবং বিদ্রোহী কবির সাম্য ও মুক্তির বাণীকে ধারণ করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি শুধু একটি সাংস্কৃতিক উদ্‌যাপনেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গভীর অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

শিক্ষা ও সংস্কৃতির সমন্বিত চর্চা

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘রবীন্দ্র–নজরুল জয়ন্তী ২০২৬’ আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত করা এবং সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে উৎসাহ দেওয়া।

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির বিশ্বাস, উচ্চশিক্ষা কেবল ডিগ্রি অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মূল্যবোধের চর্চা নিশ্চিত করাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যতম দায়িত্ব। সেই দর্শন থেকেই প্রতিবছরের মতো এবারও আয়োজন করা হয় এই বিশেষ অনুষ্ঠান।

উপাচার্যের বক্তব্য

১৩ মে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরী।

তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উপাচার্য বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্য আমাদের জাতিসত্তা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। তাঁদের আদর্শ ও দর্শন নতুন প্রজন্মকে উদারতা, মানবতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে।”

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়ায় এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্র তৈরি করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সম্মানিত প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল কবির, রেজিস্ট্রার মো. সাকির হোসেন, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম খান, স্কুল অব বিজনেসের ডিন অধ্যাপক আবুল কালাম, স্কুল অব ল’-এর ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. জাহেদুর রহমান এবং অ্যাডমিন ও স্টুডেন্টস অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক আফরোজা হেলেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর ক্যাম্পাস

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন। পরিবেশনাগুলোতে উঠে আসে প্রেম, প্রকৃতি, মানবতা, দ্রোহ, সাম্য ও স্বাধীনতার অনিবার্য বার্তা।

শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস এক উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ ও অনুরাগ অনুষ্ঠানের প্রতিটি আয়োজনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

যৌথ আয়োজনে স্টুডেন্টস অ্যাফেয়ার্স ও কালচারাল ক্লাব

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্টস অ্যাফেয়ার্স দপ্তর এবং প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি কালচারাল ক্লাব।

আয়োজকদের ভাষ্য, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের চেতনা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে একটি মানবিক, উদার ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে অবদান রাখাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

সংস্কৃতি চর্চায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকার

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা শিক্ষার্থীদের মনন গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি মানবিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো ছাড়া পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা সম্ভব নয়।

‘রবীন্দ্র–নজরুল জয়ন্তী ২০২৬’ আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি আবারও প্রমাণ করল, শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটিয়ে একটি সচেতন, সৃজনশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স