ঢাকা

ইসরায়েলি মন্ত্রীকে ঘিরে ফ্রান্সের কঠোর অবস্থান, ইইউকে পদক্ষেপের আহ্বান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ফ্রান্স ফিলিস্তিন ইস্যুতে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অধিকারকর্মীদের সঙ্গে আচরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ওপর দেশটিতে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও (ইইউ) তার বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আল-জাজিরা–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্স সরকারের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

ফরাসি সরকারের ঘোষণা

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ–নোয়েল বারো জানান, এখন থেকে ইতামার বেন-গভির ফরাসি ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ফরাসি ও ইউরোপীয় নাগরিকদের প্রতি তার আচরণের পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বারো আরও বলেন, ইইউর অন্যান্য দেশগুলোকেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা বিবেচনা করা উচিত।

বিতর্কের সূত্রপাত: ফ্লোটিলা নিয়ে ভিডিও

বিতর্কের মূল সূত্রপাত হয় গত সপ্তাহে প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে আটক ফ্লোটিলার অধিকারকর্মীদের হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় বসিয়ে রাখা হয়েছে এবং বেন-গভির তাদের সামনে দাঁড়িয়ে উপহাস করছেন।

বেন-গভির নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি পোস্ট করেন, যা আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা কী ঘটেছিল

ফিলিস্তিনের গাজায় অবরোধ ভাঙতে মানবিক সহায়তা নিয়ে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা গত ১৪ মে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল থেকে যাত্রা শুরু করে।

এর আগে দুই দফা একই ধরনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এই তৃতীয় উদ্যোগটি নেওয়া হয়। তবে সাইপ্রাস উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় পৌঁছানোর পর ইসরায়েলি নৌবাহিনী জাহাজগুলো আটক করে এবং প্রায় ৪৩০ জন আরোহীকে হেফাজতে নেয়।

পরে কয়েক শ আরোহীকে মুক্তি দিয়ে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

অধিকারকর্মীদের সঙ্গে আচরণের ভিডিও প্রকাশের পর ইতালি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, কানাডা, স্পেনসহ একাধিক দেশ ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করে। তারা ঘটনাটিকে “অগ্রহণযোগ্য” ও মানবিক মর্যাদার পরিপন্থী বলে নিন্দা জানায়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই ঘটনার ফলে ইসরায়েল ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের মধ্যে সম্পর্কেও নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।

ফ্রান্সের কড়া অবস্থান

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারো বলেন, ফরাসি নাগরিকদের প্রতি কোনো ধরনের হুমকি, ভয়ভীতি বা সহিংসতা—বিশেষ করে কোনো সরকারি কর্মকর্তার মাধ্যমে—ফ্রান্স কোনোভাবেই সহ্য করবে না।

তিনি আরও বলেন, “বেন-গভিরের দীর্ঘদিনের উসকানিমূলক ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় এই ঘটনা ঘটেছে।”

বারো একই সঙ্গে ইইউকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো একসঙ্গে এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তা আরও কার্যকর হবে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নতুন কূটনৈতিক চাপ

বিশ্লেষকদের মতে, গাজা সংকট ও মানবিক সহায়তা ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থান ধীরে ধীরে আরও কঠোর হচ্ছে। ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিগত অবস্থানেও প্রভাব ফেলতে পারে।

একই সঙ্গে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা ঘিরে বিতর্ক আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও যুদ্ধকালীন আচরণবিধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স