সচিবের অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প ফাইল পাসের অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় অতীত সরকারের সময়কার অনিয়ম ও দুর্নীতির অনুসন্ধানে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে ফাইল অনুমোদনের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, তাঁর হাতে এমন একটি ফাইল এসেছে যেখানে সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই একজন উপদেষ্টা নিজে অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি প্রশাসনিক বিধি ও কার্যপ্রণালীর পরিপন্থী এবং তদন্তের আওতায় আনা হবে। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তবে অভিযোগের জবাবে ফেসবুক লাইভে এসে পাল্টা অবস্থান নেন আসিফ মাহমুদ। প্রায় ২৪ মিনিটের বক্তব্যে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কোনো ফাইল সচিব বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমোদন ছাড়া উপদেষ্টার টেবিলে পৌঁছানোই সম্ভব নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সচিব অনুপস্থিত থাকলে অতিরিক্ত সচিব দায়িত্ব পালন করেন এবং সেই ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় অনুমোদন থাকে।
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ফাইলে তাঁর স্বাক্ষর থাকলেও সচিব বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমোদন না থাকার বিষয়টি প্রমাণসাপেক্ষ। তিনি স্পষ্ট করে সেই ফাইল প্রকাশের আহ্বান জানান এবং বলেন, অভিযোগ সত্য হলে তিনি জবাবদিহির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
লাইভের শেষদিকে তিনি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, যদি অভিযোগের পক্ষে সত্যতা থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ফাইল জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক। অন্যথায় এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তিগত আক্রমণ বলেই তিনি মনে করবেন।
এ ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনা তীব্র হয়েছে। তদন্ত কমিটির কার্যক্রম এবং অভিযুক্ত ফাইল প্রকাশ পায় কি না, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।