কোরবানির মৌসুমে কাঁচা চামড়া দেশের বাইরে অবৈধভাবে চলে যাওয়া ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, দেশের মূল্যবান এই সম্পদ যেন কোনোভাবেই পাচার না হয়, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
শুক্রবার রাজধানীর পোস্তা এলাকার চামড়া বেচাকেনার কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী জানান, চামড়া খাতকে আরও আধুনিক ও রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত করার জন্য সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ খাতের উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে একটি সমন্বিত রূপরেখা প্রকাশ করা হবে।
তিনি বলেন, এ বছর বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কাঁচা চামড়া এসেছে এবং সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় লবণ প্রয়োগের কাজও চলছে। ফলে নির্ধারিত সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।
মন্ত্রী আরও জানান, দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজারমূল্য এবং রপ্তানি আয় কয়েক হাজার কোটি টাকার একটি বড় খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে চামড়া ছাড়ানোর পদ্ধতিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে ট্যানারিগুলোর কার্যক্রম পুরোপুরি গতিশীল না হওয়ার বিষয়েও তিনি কথা বলেন। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের কিছু সীমাবদ্ধতা এখনো শিল্পের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এসব সমস্যা দূর করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হলে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সহজ হবে।
তিনি জানান, বিদ্যমান শোধনাগারের সক্ষমতা কাগজে-কলমে বেশি হলেও বাস্তবে পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তাই অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে পরিবেশসম্মতভাবে চামড়া শিল্পের প্রসার নিশ্চিত করা যায়।