উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ নিয়ে এসেছে পাকিস্তানের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমস্যাটস বিশ্ববিদ্যালয়। ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্যভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) বিভিন্ন উদীয়মান প্রযুক্তি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করার সুযোগ দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ বৃত্তির জন্য বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ঘোষিত কর্মসূচির আওতায় ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজিস’ বিষয়ে মাস্টার অব সায়েন্স (এমএস) এবং পিএইচডি পর্যায়ে মোট ২৫টি পূর্ণ বৃত্তি দেওয়া হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের টিউশন ফি পরিশোধ করতে হবে না।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদভিত্তিক কমস্যাটস বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯৮ সালে ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি হিসেবে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এটি দেশটির একটি ফেডারেল চার্টার্ড পাবলিক সেক্টর বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
যেসব বিষয়ে বৃত্তি
বিশ্ববিদ্যালয়টির বৃত্তি কর্মসূচি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন।
আবেদনের যোগ্যতা
স্নাতকোত্তর (এমএস) প্রোগ্রাম
আবেদনকারীর কমপক্ষে ১৬ বছরের শিক্ষাজীবন সম্পন্ন থাকতে হবে।
একাডেমিক ক্যারিয়ারে ন্যূনতম সিজিপিএ ২.৫০ (৪-এর মধ্যে) অথবা ৫৫ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে।
পিএইচডি প্রোগ্রাম
আবেদনকারীর কমপক্ষে ১৮ বছরের শিক্ষাজীবন সম্পন্ন থাকতে হবে।
একাডেমিক ফলাফলে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.০০ (৪-এর মধ্যে) অথবা ৬০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে।
বৃত্তির সুবিধা
এই স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি ছাড়াই পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আবেদনের সময়সীমা
আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩১ মে ২০২৬।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবেদনপদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অন্যান্য শর্তাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ভর্তি নির্দেশিকায় পাওয়া যাবে।
উচ্চশিক্ষায় বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা-নির্ভর প্রযুক্তি ও উদীয়মান গবেষণাক্ষেত্রে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই বৃত্তি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নের একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।