ঢাকা

চোখে দেখেন না, অনুভবে প্রধানমন্ত্রী—দোয়া করলেন নূরজাহান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে। চোখের আলোও নিভে গেছে বহু আগেই। তবু মনের ভেতর ছিল এক অপূর্ণ ইচ্ছা—একবার দেখা করবেন, কথা বলবেন এবং ছুঁয়ে দেখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। সেই দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে শনিবার রাজধানীর শাহজাহানপুরে।

মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরের বাসিন্দা নূরজাহান বেগম এখন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অনেকটাই একা। স্বামী নেই, সন্তানও বেঁচে নেই। বয়স ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে চলাফেরাও কষ্টসাধ্য। তারপরও হাতে লাঠি নিয়ে তিনি শাহজাহানপুরে এক আত্মীয়ের বাসা থেকে বেরিয়ে আসেন। তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলা।

শনিবার ছিল সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। এ উপলক্ষে রাজধানীর শাহজাহানপুরে দুস্থ মানুষের মধ্যে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করে বিএনপি। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানেই তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান নূরজাহান বেগম।

অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার আশায় অপেক্ষা করছিলেন নূরজাহান। বয়সের ভার, শারীরিক অসুস্থতা ও দৃষ্টিহীনতা কোনো কিছুই তাঁর ইচ্ছাশক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে যখন তাঁর সামনে এসে দাঁড়ান প্রধানমন্ত্রী, তখন আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

চোখে দেখতে না পারলেও কণ্ঠস্বর শুনে এবং হাত ছুঁয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি অনুভব করেন নূরজাহান। তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই মুহূর্তে যেন বহুদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়।

সাক্ষাতের সময় বারবার প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেন নূরজাহান বেগম। আবেগঘন সেই মুহূর্তে তাঁর কণ্ঠে ছিল আন্তরিক শুভকামনা, আর মুখে ছিল গভীর তৃপ্তির ছাপ। দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ হওয়ার আনন্দ যেন তাঁর বয়স ও দুঃখ-কষ্টকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও ভুলিয়ে দেয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন জানান, জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নূরজাহান বেগমের এই আকাঙ্ক্ষা ছিল অত্যন্ত গভীর। স্বামী-সন্তানহীন একাকী জীবনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার আশা পোষণ করে আসছিলেন। শনিবার সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় তাঁকে বেশ আবেগাপ্লুত ও আনন্দিত দেখা যায়।

শাহজাহানপুরের ওই অনুষ্ঠানে নূরজাহান বেগম ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ উপস্থিত মানুষের মাঝেও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। অনেকেই ঘটনাটিকে একজন প্রবীণ নারীর দীর্ঘদিনের আশা পূরণের মানবিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স