ঢাকা

বিতর্কের পর বক্তব্য প্রত্যাহার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন ববি হাজ্জাজ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে দেওয়া নিজের সাম্প্রতিক মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যেসব ভুল-বোঝাবুঝি ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিরসনের লক্ষ্যেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী তার পোস্টে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ও বক্তব্যের ভুল উপস্থাপন প্রসঙ্গে’ শিরোনামে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, একটি পডকাস্টে দেওয়া তার মন্তব্যকে ঘিরে সম্প্রতি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মনে করেন, তার বক্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে মন্তব্য, সরকারি অবস্থান নয়

ববি হাজ্জাজ স্পষ্ট করে বলেন, তিনি যে মন্তব্য করেছেন তা সম্পূর্ণই ব্যক্তিগত মতামত, যা সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও বিশ্বমানের গবেষণাধর্মী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা। তিনি বলেন, তার মন্তব্য কখনোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, মর্যাদা বা অবদানকে খাটো করার উদ্দেশ্যে ছিল না।

উচ্চশিক্ষা খাত নিয়ে পর্যবেক্ষণ

ফেসবুক পোস্টে প্রতিমন্ত্রী উচ্চশিক্ষা খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে।

তার মতে, গবেষণার প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেওয়া, একাডেমিক উৎকর্ষের পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনার প্রাধান্য, শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতার প্রশ্ন, এবং প্লেজারিজমের মতো অনৈতিক চর্চার অভিযোগ—এসব বিষয় উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করেছে।

তিনি এসব প্রবণতার সমালোচনা করে বলেন, একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব চর্চার কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।

পডকাস্টের বক্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি যে পডকাস্টে মন্তব্য করেছিলেন সেটি ছিল একটি অনানুষ্ঠানিক ও স্বতঃস্ফূর্ত আলোচনা। এটি কোনো গবেষণাভিত্তিক বা নীতিগত ফোরাম ছিল না। তাই সেখানে ব্যবহৃত ভাষা ও উপস্থাপনাকে প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য হিসেবে দেখা উচিত নয়।

তিনি দাবি করেন, যদি এটি কোনো আনুষ্ঠানিক একাডেমিক বা নীতিগত আলোচনা হতো, তাহলে বক্তব্য আরও কাঠামোবদ্ধভাবে উপস্থাপন করা হতো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি শ্রদ্ধা

বিতর্ক সত্ত্বেও প্রতিমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতি গঠনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু জাতীয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করবে।

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও প্রত্যাশা

ববি হাজ্জাজ তার পোস্টে বলেন, তিনি এমন একটি একাডেমিক সংস্কৃতি চান যেখানে সততা, মেধা, গবেষণার মান এবং বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

তার মতে, প্লেজারিজমসহ যেকোনো অনৈতিক একাডেমিক চর্চার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান থাকা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও গবেষণানির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব।

বিতর্কের অবসানের প্রত্যাশা

সবশেষে প্রতিমন্ত্রী জানান, তার আংশিক বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা হওয়ায় অনেকেই অসন্তুষ্ট ও মর্মাহত হয়েছেন। তাই তিনি পুরো বক্তব্যটি প্রত্যাহার করছেন এবং আশা করছেন, এ নিয়ে ভবিষ্যতে আর কোনো বিতর্ক বা ভুল-বোঝাবুঝি থাকবে না।

এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হলেও প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা ও প্রত্যাহারের পর বিষয়টি আপাতত প্রশমিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স