ঢাকা

বিরোধী রাজনীতিতে নতুন গতি আনতে ‘ইন্ডিয়া’ জোট সক্রিয় করতে চাইছে কংগ্রেস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ভারতের বিরোধী রাজনীতিতে ফের সক্রিয়তা বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছে কংগ্রেস। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি-বিরোধী জোট Indian National Developmental Inclusive Alliance–কে পুনরুজ্জীবিত ও আরও সংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। এই লক্ষ্যেই আগামী জুন মাসের প্রথমার্ধে দিল্লিতে জোটের শরিক দলগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

জোট সক্রিয় করার কৌশলে কংগ্রেস

কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, গত কয়েক মাসে বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনী ফলাফল এবং আঞ্চলিক শক্তির অবস্থান বদলেছে। এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় Indian National Developmental Inclusive Alliance–কে নতুন করে সক্রিয় করা ছাড়া বিকল্প নেই।

সূত্রের দাবি, দিল্লির আসন্ন বৈঠকে কেবল সমন্বয় নয়, বরং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের জন্য রাজ্যভিত্তিক কৌশল নির্ধারণও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে।

নতুন শরিক আনার কৌশল

কংগ্রেস এখন জোট সম্প্রসারণের দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, নতুন করে কয়েকটি আঞ্চলিক শক্তিকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

Biju Janata Dal (ওডিশা)
YSR Congress Party
তেলেঙ্গানার Bharat Rashtra Samithi
তামিলনাড়ুর বিভিন্ন আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তি

কংগ্রেসের লক্ষ্য, বিজেপির বিরুদ্ধে একটি সর্বভারতীয় বিকল্প শক্তি গড়ে তোলা, যেখানে আঞ্চলিক দলগুলোর ভূমিকা হবে নির্ণায়ক।

নেতৃত্ব ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ইতিহাস

Indian National Developmental Inclusive Alliance গঠনের সময় থেকেই জোটের নেতৃত্ব নিয়ে অস্পষ্টতা ছিল। প্রথম পর্যায়ে জোটের নেতৃত্বে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী Nitish Kumar। একই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee–ও নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

পরবর্তীতে Janata Dal (United) জোট থেকে সরে গিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন শিবিরে ফিরে যায়। এরপর থেকেই জোটের অভ্যন্তরে নেতৃত্ব প্রশ্ন আরও জটিল হয়ে ওঠে।

সাম্প্রতিক নির্বাচনী বাস্তবতা ও সমীকরণের পরিবর্তন

সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফল জোটের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন এনেছে। কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করছে, কয়েকটি আঞ্চলিক শক্তির দুর্বলতা এবং তাদের ভোটব্যাঙ্কের ওঠানামা জোটের ভেতরে নতুন নেতৃত্ব কাঠামোর সুযোগ তৈরি করেছে।

বিশেষ করে কেরালা ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে কংগ্রেসের পুনরুত্থান এবং কিছু রাজ্যে আঞ্চলিক দলের দুর্বলতা জোটের ভেতরে কংগ্রেসের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী করেছে।

মমতার কৌশল ও জোটের ভবিষ্যৎ ভূমিকা

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, Mamata Banerjee–র জন্যও Indian National Developmental Inclusive Alliance গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম। পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক চাপ এবং দলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মধ্যে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা তাঁর জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

একই সঙ্গে দলের ভেতরে নেতৃত্ব ও উত্তরাধিকার প্রশ্ন নিয়ে টানাপোড়েনও জোট কৌশলে প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

জোট সম্প্রসারণে কংগ্রেসের লক্ষ্য

কংগ্রেস এখন জোটকে শুধু নির্বাচনী সমঝোতা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে। এই পরিকল্পনায় লক্ষ্য—

বিজেপি-বিরোধী ভোট একত্র করা
রাজ্যভিত্তিক আসন সমন্বয়
একক ন্যূনতম কর্মসূচি নির্ধারণ
কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কাঠামো শক্তিশালী করা

তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আঞ্চলিক দলগুলোর স্বার্থ ও নেতৃত্ব প্রশ্নে ঐক্য ধরে রাখা।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক সমীকরণ

Indian National Developmental Inclusive Alliance–এর সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এটি কি সত্যিকারের একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নিতে পারবে, নাকি কেবল নির্বাচনী সমঝোতার সীমিত কাঠামোতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

আগামী জুনের বৈঠক এই প্রশ্নের উত্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স