বৈরী আবহাওয়া, টানা বর্ষণ ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জলাবদ্ধতার মধ্যেও বুধবার (১৬ জুলাই) চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের ২ হাজার ৫৮৩টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছেন বলে জানিয়েছে সরকার।
এদিকে সাম্প্রতিক আবহাওয়া পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে এবং পরীক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সরকারের নেওয়া পাঁচটি শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম ছাড়া সারা দেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
মাহদী আমিন জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানের আবহাওয়া পরিস্থিতি, প্রশাসনের মতামত এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক স্বার্থ বিবেচনা করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের বাকি সব শিক্ষা বোর্ডে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। সবার মতামতের ভিত্তিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ পরীক্ষার্থীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের ৫ উদ্যোগ
১. পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ ক্ষমতা
পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে সমস্যা বা কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনে—
- পরীক্ষা কেন্দ্র পরিবর্তন,
- পরীক্ষা স্থগিত,
- কিংবা পরীক্ষার সময় বৃদ্ধি—
এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
২. অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প পরীক্ষার সুযোগ
প্রতিকূল আবহাওয়া বা অনিবার্য কারণে যেসব শিক্ষার্থী চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশ নিতে পারেনি, তাদের জন্যও বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে।
মাহদী আমিন জানান, এসব শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া একই বিষয়ের অভিন্ন প্রশ্নপত্রে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
এর মাধ্যমে কোনো শিক্ষার্থী যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
৩. পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষায় দুটি প্রশ্নে ত্রুটি ধরা পড়ার পর সরকার শিক্ষার্থীদের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, ভুল থাকা ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।
এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রশ্নপত্রের ত্রুটির কারণে কোনো পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
৪. প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুল থাকার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিন জানান, প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তিদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
৫. পরীক্ষা পরিচালনায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার এইচএসসি পরীক্ষাকে শুধু একটি পাবলিক পরীক্ষা হিসেবে দেখছে না; বরং এটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা ও কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কাছে এইচএসসি শুধু একটি পরীক্ষা নয়; এটি আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগরদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ।”
শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সরকারের অঙ্গীকার
ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন আরও বলেন, বৈরী আবহাওয়া ও নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরীক্ষা পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই লক্ষ্যেই সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
সরকারের আশা, প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ, শিক্ষা বোর্ডগুলোর সহযোগিতা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে যেন কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হবে।