ঢাকা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, জর্ডান ও কুয়েতে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি ইরানের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে জর্ডান ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পৃথক অভিযানে জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা জানিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। তবে এসব হামলার দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন), মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম), জর্ডান কিংবা কুয়েতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি বা দাবিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার দাবি

ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, তারা জর্ডানের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আজরাক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল ঘাঁটিতে ব্যবহৃত মার্কিন সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগার।

আজরাক বিমানঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মার্কিন বাহিনীর সদস্য মোতায়েন, নজরদারি কার্যক্রম এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সামরিক অভিযানে এই ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলার উদ্দেশ্য ছিল ওই ঘাঁটির সামরিক সক্ষমতা ও যোগাযোগব্যবস্থাকে দুর্বল করা।

তবে হামলার বিষয়ে পেন্টাগন কিংবা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে জর্ডান সরকারও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

কুয়েতের আলী আল সালেম ঘাঁটিতেও হামলার দাবি

অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের একটি সমাবেশকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে মার্কিন সেনাদের অবস্থানের পাশাপাশি ঘাঁটির একটি আর্লি ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেম বা আগাম সতর্কীকরণ রাডার ব্যবস্থাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান অভিযানের ক্ষেত্রে ঘাঁটিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তবে জর্ডানের ঘটনার মতোই কুয়েতে হামলার দাবির বিষয়ে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ কিংবা কুয়েত সরকারের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি

রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম হামলার দাবি প্রকাশ করলেও এ বিষয়ে স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া হামলায় কোনো হতাহত বা স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।

উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ এবং কঠোর বক্তব্যের কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জর্ডান ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার এই দাবি যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা দুই দেশের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজতাকে আরও তীব্র করতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া পর্যন্ত হামলার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স