ঢাকা

ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে-র দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ভারতের এনইইটি (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় উঠে এসেছে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) নাম। সংগঠনটির নেতা অভিজিৎ দীপকে ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ৬ জুন তিনি ভারতে ফিরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে মাঠে নামবেন।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ ঘোষণা দেন। তার দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।

তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তারা রাজপথে নামছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি দিল্লিতে পৌঁছে প্রথমে বিমানবন্দরে সমর্থকদের সঙ্গে মিলিত হবেন এবং পরে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি চাইবেন।

NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারি–কে ঘিরে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। মেডিকেল কলেজে ভর্তির জাতীয় এই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে লাখো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও ওঠে।

অভিজিৎ দীপকের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দাবির পক্ষে ব্যাপক সমর্থন তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, লাখো মানুষ অনলাইনে তাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন এবং বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভও হয়েছে।

বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে পাবলিক রিলেশনসে স্নাতকোত্তর অধ্যয়নরত এই তরুণ এর আগে পুনে থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক সম্পন্ন করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্রচারণার মাধ্যমে আলোচনায় আসেন।

সিজেপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরে এসে সরাসরি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে চায়। সংগঠনটির মতে, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট ও পরীক্ষায় অনিয়ম তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলছে।

অভিজিৎ দীপকের পরিবার ভারতের মহারাষ্ট্রে বসবাস করে। তাঁর বাসভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে তাঁর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারবিরোধী অবস্থানের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সংগঠনের অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং তাঁর পরিবারকে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। তবুও তিনি আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবেন না বলে জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের কিছু শীর্ষ বিচারিক মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে উঠেছে, তার প্রতীক হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আলোচনায় আসে। পরে তা দ্রুত অনলাইন জগতের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে বলে দাবি সংগঠনটির।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অনলাইনভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন তরুণ প্রজন্মের হতাশা ও প্রতিবাদের নতুন রূপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা বাস্তব রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে ৬ জুন অভিজিৎ দীপকের ভারতে প্রত্যাবর্তন এবং ঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এখন নজর থাকবে, তাঁর এই আন্দোলন বাস্তবে কতটা সংগঠিত রূপ নেয় এবং প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া কী হয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স