ঢাকা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে বাংলাদেশের খলিলুর রহমান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে পরাজিত করে এক বছরের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্জন করেন।

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত গোপন ব্যালটে ১৯০টি ভোটের মধ্যে খলিলুর রহমান পান ৯৯টি ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কাকোরিসের পক্ষে ভোট পড়ে ৯১টি। ফলে অল্প ব্যবধানে হলেও জয় নিশ্চিত করেন বাংলাদেশের প্রার্থী।


এই নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো বাংলাদেশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসতে যাচ্ছেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের বিশিষ্ট কূটনীতিক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী একই দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

নতুন সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমান আগামী ৮ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক অধিবেশনে তিনি সভাপতিত্ব করবেন।


খলিলুর রহমানের কর্মজীবনের বড় অংশ কেটেছে জাতিসংঘ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকে। নিউইয়র্ক ও জেনেভায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন নীতি ও গবেষণাভিত্তিক প্রকাশনায়ও অবদান রেখেছেন। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এই নির্বাচনে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।


কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সমর্থনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সমঝোতা ও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এ নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করেছে। যদিও খলিলুর রহমানকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়।

অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সাইপ্রাস বহু বছর ধরে এ পদের জন্য প্রচারণা চালালেও শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সমর্থন ধরে রাখতে পারেনি।


নির্বাচনে জয়লাভের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক বার্তায় তিনি বলেন, এই অর্জন বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতিফলন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্বে খলিলুর রহমান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সংলাপ জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

বাংলাদেশের এ সাফল্যে বিভিন্ন দেশও শুভেচ্ছা জানিয়েছে। চীন তাদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিকেরাও শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন।


পর্যবেক্ষকদের মতে, জাতিসংঘের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফোরামগুলোর একটির নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া দেশের কূটনৈতিক সক্ষমতার বড় স্বীকৃতি। এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরও প্রতিফলন। বাংলাদেশের জন্য এই নির্বাচনকে তাই একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স