ঢাকা

দেবীদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন, দায়িত্বে অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে একাধিক চিকিৎসককে কর্মস্থলে না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। পরে অনুপস্থিত পাঁচ চিকিৎসকের কাছে কারণ জানতে চেয়ে নোটিশ জারি করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

মঙ্গলবার সকালে পূর্বঘোষণা ছাড়াই হাসপাতালে যান সংসদ সদস্য। সেখানে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও সেবা কার্যক্রম ঘুরে দেখার পাশাপাশি চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও যাচাই করেন তিনি। পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, কর্মরত ২৬ জন চিকিৎসকের মধ্যে পাঁচজন নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না।


হাসপাতালে উপস্থিত দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর নির্দেশনার পর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সংশ্লিষ্ট পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করে।

যাঁদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে তাঁরা হলেন চিকিৎসা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম (শুভ), শামীম কাউছার ও শিমুল রানী দত্ত। এছাড়া কনসালট্যান্ট শরীফ উদ্দিন আহমেদ এবং মেডিসিন বিশেষজ্ঞ কাজী আয়শা সিদ্দিকাকেও নোটিশের আওতায় আনা হয়েছে।


হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, চিকিৎসকদের সময়মতো কর্মস্থলে না আসা কিংবা কর্মঘণ্টা পুরোপুরি অনুসরণ না করার অভিযোগ নতুন নয়। অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়।

এই প্রেক্ষাপটে আকস্মিক পরিদর্শনে বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সংসদ সদস্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর নজরদারির নির্দেশনা দেন।


পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, হাসপাতালে সেবার মান নিশ্চিত করতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। তিনি জানান, কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়া পাঁচজন চিকিৎসকের অনুপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়।

এ কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রতিদিন সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসকদের নিয়ে ব্রিফিং আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই সভার উপস্থিতির তথ্য নিয়মিত তাঁর কাছে পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শোকজপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে তাঁদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন রেজা মো. সারোয়ার আকবর জানিয়েছেন, অভিযুক্ত চিকিৎসকদের আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে। ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন আলী নুর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, সরকারি চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স