মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত যেসব শিক্ষার্থী বিভিন্ন কারণে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম থেকে বাদ পড়েছে, তাদের জন্য আবারও সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ষষ্ঠ শ্রেণির এসব শিক্ষার্থীর অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ২৮ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ জুন) বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, সুপার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলা হয়, ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত যেসব শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কোনো কারণে সম্পন্ন হয়নি বা বাদ পড়েছে, তাদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থে বিশেষ এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বোর্ড জানায়, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন এবং মানবিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার মাধ্যমে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার সময় রেজিস্ট্রেশন–সংক্রান্ত জটিলতা ও ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে বিলম্ব ফিসহ রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিতে পারবে। আজ থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলবে আগামী ২৮ জুন পর্যন্ত।
বোর্ড আরও জানিয়েছে, রেজিস্ট্রেশন ফি সিস্টেমে জমা হওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর তথ্য আপলোডের জন্য নতুন এন্ট্রি অপশন চালু হবে। শিক্ষার্থীদের তথ্য বা ইএসআইএফ (eSIF) এন্ট্রির শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ জুন।
তবে এ সুযোগের আওতায় কেবল নতুন শিক্ষার্থীর তথ্য বিলম্ব ফি দিয়ে এন্ট্রি করা যাবে। পূর্বে এন্ট্রি করা শিক্ষার্থীদের কোনো তথ্য সংশোধন (এডিট) বা মুছে ফেলার (ডিলিট) সুযোগ থাকবে না বলে স্পষ্ট করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।
রেজিস্ট্রেশন ফি প্রদান কিংবা তথ্য এন্ট্রিসংক্রান্ত কোনো সমস্যার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের অফিস চলাকালীন সময়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন (EIIN) নিবন্ধিত সিম নম্বর ব্যবহার করে বোর্ডের নির্ধারিত হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এবং রেজিস্ট্রেশনবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মূল ধারায় রাখতে শিক্ষা বোর্ডের এ সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মাধ্যমে বাদ পড়া শিক্ষার্থীরা পুনরায় রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পেয়ে ভবিষ্যতে একাডেমিক জটিলতা থেকে মুক্ত থাকতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।