পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর তিন পার্বত্য জেলার বাসিন্দাদের শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দীপেন দেওয়ান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবন বিএনপির আদর্শের সঙ্গেই যুক্ত থাকবে এবং দলটির প্রতি তাঁর অবস্থান অপরিবর্তিত।
বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, তাঁর পদত্যাগকে ঘিরে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের মানুষের মধ্যে যে আলোচনা, উদ্বেগ ও আবেগের সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন।
দীপেন দেওয়ান সবাইকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ধরনের উসকানি বা বিভ্রান্তির সুযোগ না দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন। তাঁর মতে, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হওয়া জরুরি।
গত সোমবার তিনি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে মন্ত্রিত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সমস্যার কারণে দায়িত্ব পালনে জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল রাখার স্বার্থে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর রাঙামাটিতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাঁর পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। পরবর্তী দিনেও বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকে।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে দীপেন দেওয়ান বলেন, বিএনপির আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা অটুট। তিনি স্মরণ করেন, তাঁর বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তা ও মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও অনুপ্রেরণায় তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন। ভবিষ্যতেও দলের আদর্শ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের উদ্দেশে দীপেন দেওয়ান বলেন, মতের ভিন্নতা থাকলেও তা যেন বিভাজনের কারণ না হয়। তিনি ঐক্য, শান্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
২০০৫ সালে বিচার বিভাগীয় চাকরি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন দীপেন দেওয়ান। পরে তিনি রাঙামাটি জেলা বিএনপির নেতৃত্বে আসেন এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়েও দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে দলের নেতৃত্বের প্রতি তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং রাজনৈতিক জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গেই থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।