ঢাকা

বিদ্যুতের নতুন মূল্য নির্ধারণ, বাড়তি খরচের চাপ সব শ্রেণির গ্রাহকের ওপর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় এবার বিদ্যুতের দামও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন ঘোষণার ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ের পাশাপাশি গ্রাহক পর্যায়েও বিদ্যুতের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। এর প্রভাব পড়বে আবাসিক, কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যিক—সব ধরনের ব্যবহারকারীর ওপর।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বুধবার নতুন ট্যারিফ ঘোষণা করে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাইকারি বিদ্যুতের গড় মূল্য প্রায় ২০ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড় মূল্য প্রায় ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি সঞ্চালন চার্জও বাড়ানো হয়েছে। নতুন হার জুন মাস থেকেই কার্যকর হবে।

সবচেয়ে কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী লাইফলাইন গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও মূল্যবৃদ্ধি থেকে ছাড় দেওয়া হয়নি। সাধারণত মাসে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন এমন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিটের জন্য আগের চেয়ে বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হবে। ফলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয়ও বাড়বে।

বিদ্যুৎ খাতের বিশ্লেষকদের মতে, নতুন দামের ফলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের রাজস্ব উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে এবং সরকারি ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমবে। তবে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি এখনও সরকারকে বহন করতে হবে। একই সঙ্গে ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত হাজার হাজার কোটি টাকা আদায় হবে, যার সঙ্গে কর ও ভ্যাটের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পুরো প্রক্রিয়াটি তুলনামূলক দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব জমা, গণশুনানি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল খুবই কম। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, বাজেট প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী আবাসিক গ্রাহকদের বিভিন্ন ধাপে ইউনিটপ্রতি মূল্য বাড়ানো হয়েছে। কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পরিবার থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ ব্যবহারকারী গ্রাহক—সবাইকে আগের তুলনায় বেশি বিল দিতে হবে। একইভাবে কৃষি সেচ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, উপাসনালয়, ক্ষুদ্র শিল্প, বড় শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিল্প খাতের বিদ্যুতের মূল্যও বাড়ানো হয়েছে, যা উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারে পণ্যের দামে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশ মনে করছে, বিদ্যুতের অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই চাপিয়ে দেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এ বিষয়টিকেও অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ভোক্তা অধিকারকর্মীরা এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের অদক্ষতা, অব্যবহৃত উৎপাদন সক্ষমতা এবং উচ্চ ক্যাপাসিটি চার্জের দায় সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপানো উচিত নয়। বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর নতুন মূল্যবৃদ্ধি অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করবে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যয় একসঙ্গে বাড়ায় পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে খরচ বাড়বে। এর প্রভাব বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও পড়তে পারে, যা সামগ্রিকভাবে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স