প্রায় ১৩ মাস কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। বুধবার রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্ত হয়ে বের হন।
কারা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, তাঁর মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় আদালতের আদেশ আগে থেকেই কারাগারে পৌঁছেছিল। তবে প্রশাসনিক কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর রাতের দিকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
মুক্তির সময় কারাগারের বাইরে তাঁর পরিবারের সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। কারামুক্ত হওয়ার পর তিনি সরাসরি নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন।
২০২৫ সালের মে মাসে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একাধিক মামলায় জামিন লাভের পরও নতুন মামলায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তাঁর কারামুক্তি দীর্ঘায়িত হয়েছিল।
আদালত সূত্রে জানা যায়, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা কয়েকটি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় উচ্চ আদালত জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আবেদন করে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে সর্বোচ্চ আদালত তাঁর জামিন বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দিলে মুক্তির পথ সুগম হয়।
সেলিনা হায়াৎ আইভী দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। প্রথমে পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে সিটি করপোরেশন গঠনের পর ধারাবাহিকভাবে তিন দফা নির্বাচনে জয়ী হয়ে নগর প্রশাসনের নেতৃত্ব দেন।
তাঁর মুক্তিকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সমর্থকেরা এটিকে স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছেন, আর পর্যবেক্ষকদের মতে, সামনের দিনে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা আবারও আলোচনায় আসতে পারে।