ঢাকা

নেতানিয়াহুর ওপর চাপ বাড়াতে চান ট্রাম্প, কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা মোকাবিলায় গড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যৌথ কৌশলগত অবস্থান এখন তীব্র চাপ ও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনে পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে। যুদ্ধ শুরুর প্রায় ১০০ দিন পর এই জোটের সম্পর্ক আগের মতো সমন্বিত অবস্থায় নেই—বরং নীতিগত পার্থক্য ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে দূরত্ব স্পষ্ট হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বিনিয়ামিন নেতানিয়াহু–কে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে চাপ দিচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে। বিষয়টি ঘিরে ওয়াশিংটন–জেরুজালেম সমন্বয়ে টানাপোড়েন আরও বাড়ছে।

যুদ্ধের পর ১০০ দিনে জোটে ফাটল

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একসঙ্গে সামরিক ও রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই সমন্বয় দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও হামাসকে ঘিরে সংঘাত এবং পাল্টা হামলার ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

হিজবুল্লাহর হামলায় ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় ইসরায়েল পাল্টা হামলা চালায়। তবে ওই হামলা ছিল সীমিত পরিসরের—যা মূলত প্রতীকী বা নিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এরই মধ্যে ইরান ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে প্রায় ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। যদিও এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

ইসরায়েলের পাল্টা হামলা পরিকল্পনা ও ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ

ইরানের হামলার পর ইসরায়েল বড় ধরনের পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়। তবে এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন।

ট্রাম্প নাকি নেতানিয়াহুকে নতুন করে হামলা না করার বিষয়ে সতর্ক করেন এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করার আহ্বান জানান। তাঁর অবস্থান ছিল, উভয় পক্ষই ইতিমধ্যে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

তিনি ইঙ্গিত দেন যে, অতিরিক্ত সামরিক প্রতিক্রিয়া অঞ্চলে আরও বড় যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করবে।

‘চুক্তি কাছাকাছি’ দাবি ট্রাম্পের

ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর মতে, দ্রুত একটি চুক্তি হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য হবে।

তিনি আরও বলেন, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে হবে—এটাই যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।

তবে ফাঁস হওয়া কিছু খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সন্দেহও রয়েছে যে, সেখানে কার্যকর নিশ্চয়তার অভাব থাকতে পারে।

হরমুজ প্রণালি ও বৈশ্বিক জ্বালানি উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান অগ্রাধিকারগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। এই পথ বন্ধ বা অস্থির হয়ে পড়লে বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানকে সামরিক উত্তেজনার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নেতানিয়াহুর জন্য কৌশলগত ও রাজনৈতিক চাপ

ট্রাম্পের নির্দেশ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জন্য জটিল কৌশলগত ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। একদিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চাপ উপেক্ষা করলে বৃহত্তর যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে; অন্যদিকে নির্দেশ মেনে চললে ইসরায়েলের প্রতিরোধ সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেতানিয়াহুর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থানকেও প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে।

ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্পের কঠোর বার্তা

সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চুক্তি না হলে ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে অবশিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো বা বিদ্যমান চাপ বজায় রাখা হবে।

তবে একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনুসরণ করতে হবে।

বিশ্লেষণ: নতুন অনিশ্চয়তার মধ্যপ্রাচ্য

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক এক নতুন অনিশ্চয়তার পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। কূটনৈতিক সমঝোতা ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সামান্য ভুল সিদ্ধান্তেই বড় আকারের আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স