ঢাকা

ট্রাম্প প্রশাসনের এইচ-১বি ভিসা ফি সিদ্ধান্তে ধাক্কা, বাতিল করল আদালত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর আরোপিত ১ লাখ ডলারের আবেদন ফি–সংক্রান্ত নীতি বাতিল করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, অভিবাসন নীতিতে এ ধরনের আর্থিক বাধ্যবাধকতা আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই; এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার কেবল মার্কিন কংগ্রেসের।

এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও প্রযুক্তি খাতে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

আদালতের রায়: ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছিলেন প্রেসিডেন্ট

বোস্টনের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ লিও সোরোকিন তাঁর ৪২ পৃষ্ঠার রায়ে উল্লেখ করেন, ফেডারেল অভিবাসন আইন অনুযায়ী এইচ-১বি ভিসা আবেদনকারীদের ওপর এ ধরনের “কর বা ফি” আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই।

তিনি রায়ে বলেন, কংগ্রেস কোনোভাবেই নির্বাহী বিভাগকে অভিবাসন ব্যবস্থায় একতরফাভাবে এ ধরনের আর্থিক শর্ত আরোপের অনুমতি দেয়নি। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ফি নীতি আইনি ভিত্তিহীন।

বিচারক আরও উল্লেখ করেন, প্রশাসনের যুক্তি—ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রেসিডেন্টকে নীতিগত পরিবর্তনের সুযোগ দেয়—এটি এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

ট্রাম্পের নীতির পেছনের উদ্দেশ্য

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল, এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থার অতিরিক্ত ব্যবহার রোধ এবং বিদেশি শ্রমিক নির্ভরতা কমাতে এই ফি আরোপ করা প্রয়োজন। তাদের মতে, উচ্চ ফি কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় কর্মী নিয়োগে উৎসাহিত করবে।

তবে আদালত এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, নীতিগত উদ্দেশ্য থাকলেও তা আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করতে পারে না।

মামলার পটভূমি

এই নীতির বিরুদ্ধে গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক অ্যাটর্নি জেনারেলদের একটি জোট মামলা দায়ের করে। তারা দাবি করেন, প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া অভিবাসন নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন এনেছে, যা সংবিধানবিরোধী।

এই মামলার পরই বিষয়টি ফেডারেল আদালতের বিবেচনায় আসে।

এইচ-১বি ভিসা কী

এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রে একটি অ-অভিবাসী কর্মভিসা, যা মূলত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য প্রযোজ্য। তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, চিকিৎসা ও গবেষণাসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত ক্ষেত্রে এই ভিসার মাধ্যমে বিদেশি কর্মীরা কাজ করার সুযোগ পান।

এই ভিসার জন্য সাধারণত আবেদনকারীর ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি বা সমমানের যোগ্যতা থাকতে হয়। ভিসার মেয়াদ সাধারণত তিন বছর, যা সর্বোচ্চ ছয় বছর পর্যন্ত নবায়নযোগ্য।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও বিতর্ক

অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করেন, এই কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতকে প্রতিযোগিতামূলক রাখতে সহায়তা করে এবং দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণ করে। এতে দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়।

অন্যদিকে, কিছু নীতিনির্ধারক মনে করেন, বিদেশি কর্মীর অতিরিক্ত নির্ভরতা স্থানীয় চাকরির বাজারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই এইচ-১বি ভিসা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

রায়ের তাৎপর্য

বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এই রায় অভিবাসন নীতিতে নির্বাহী ক্ষমতার সীমা পুনর্নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে এইচ-১বি ভিসা সংক্রান্ত যেকোনো নীতিগত পরিবর্তনে কংগ্রেসের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স