ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপট্টনমে একটি স্টিল কারখানায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ৮ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। গলিত লোহাভর্তি একটি বিশাল পাত্র উল্টে পড়ে পুরো এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়লে এই প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে। এতে আরও অন্তত ৬ শ্রমিক গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন।
বিশাখাপট্টনম–এর ভিজাগ স্টিল প্ল্যান্টের স্টিল মেল্টিং শপ (এসএমএস) শাখায় সোমবার বিকেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১ হাজার ৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত গলিত লোহা বহনকারী একটি বড় পাত্র হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে যায়। এতে সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আশপাশের পুরো এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার সময় ওই স্থানে অন্তত ২০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই পালানোর সুযোগ পাননি।
নিহত ও আহতদের অবস্থা
দুর্ঘটনায় নিহত ৮ শ্রমিকের মরদেহ এতটাই দগ্ধ হয়েছে যে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা পরিচয় শনাক্তের কাজ করছেন।
গুরুতর দগ্ধ আহত ছয়জনকে দ্রুত উদ্ধার করে কারখানার নিজস্ব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শরীরের ৭০ শতাংশেরও বেশি অংশ পুড়ে গেছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন রাভুরি মল্লিকার্জুন রাও, পি শ্রীনিবাস রাও, অর্জুন আপ্পা রাও, সত্যানন্দ, হরি বাবু ও পাইদিরাজু।
শ্রমিকদের অভিযোগ ও নিরাপত্তা প্রশ্ন
শ্রমিক সংগঠন সিআইটিইউ নেতা কে অযোধ্যা রাম অভিযোগ করে বলেন, কারখানার স্টিল মেল্টিং শপে একটি বিস্ফোরণের পরই গলিত লোহা ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর দাবি, শুধু ওই বিভাগ নয়, পুরো কারখানার বিভিন্ন অংশেই দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা চলছে।
শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকায় এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর শ্রমিকরা ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা মরদেহ গণনা করে পুলিশকে খবর দেন বলেও জানা গেছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের পূর্ণ সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
অতীতেও বড় দুর্ঘটনা
ভিজাগ স্টিল প্ল্যান্টে এর আগেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০১২ সালের ১৪ জুন একই কারখানায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন শ্রমিক ও কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর এটিকে কারখানাটির সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদির শোক ও সহায়তার ঘোষণা
দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
তিনি ঘোষণা দেন, নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
মোদি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে।
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যন্ত্রপাতির অবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দুর্ঘটনা আবারও ভারী শিল্প কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও শ্রমিক সুরক্ষার ঘাটতিকে সামনে নিয়ে এসেছে।