ঢাকা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা, ইরান-এর পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত বাহরাইন ও জর্ডান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ইরানে সাম্প্রতিক হামলার জবাবে বাহরাইন ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

আল–জাজিরা সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর United States Fifth Fleet লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর অবস্থানস্থল হিসেবে পরিচিত একটি বিমানঘাঁটিতেও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে সংগঠনটি।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়া

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক ও কেশম দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

আইআরজিসি আরও জানায়, সিরিক অঞ্চলের বেমানি জেলায় একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে। এই হামলাকে তারা সরাসরি সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বাহরাইন ও জর্ডানে পাল্টা হামলার দাবি

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, বাহরাইনে মার্কিন নৌঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

এ ছাড়া জর্ডানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকা একটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে তারা। বিবৃতিতে বলা হয়, ওই হামলায় ঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং একটি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার।

তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

‘বড় আকারের প্রতিশোধমূলক অভিযান’ ঘোষণা

আইআরজিসি তাদের এই হামলাকে বৃহত্তর প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, এর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমান ও নৌঘাঁটির মোট ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।

এ ছাড়া ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তারা।

বিবৃতিতে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও বিস্তৃত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি

চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হুমকি প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে।

কুয়েত সেনাবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নাগরিকদের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা সতর্ক করে বলেছে, শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকে তথ্য গ্রহণ করা উচিত।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার ঝুঁকি

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি হামলা-পাল্টা হামলার দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বাহরাইন, জর্ডান এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকায় পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।

আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলার দাবি যদি অব্যাহত থাকে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিস্তৃত সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স