ঢাকা

লাইসেন্স বাতিলের পর অনিশ্চয়তায় রোগীরা, পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের পর সেখানে চিকিৎসা নিতে থাকা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ থাকলেও গুরুতর অবস্থায় থাকা অনেক রোগী এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য শিগগিরই আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

অনেক রোগী হাসপাতাল ছাড়লেও সংকটাপন্নরা রয়ে গেছেন

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় শত শত রোগী সেখানে ভর্তি ছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে অনেক রোগী হাসপাতাল ত্যাগ করলেও এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বিশেষ করে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র, নবজাতক পরিচর্যা ইউনিট এবং হৃদ্‌রোগ-সংশ্লিষ্ট ইউনিটে থাকা রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তর করা সহজ নয়। তাই তাঁদের চিকিৎসা কার্যক্রম এখনো চলমান রাখা হয়েছে।

ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে ভর্তি থাকা অধিকাংশ রোগীর শারীরিক অবস্থা জটিল। তাঁদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বন্ধ জরুরি বিভাগ, নেওয়া হচ্ছে না নতুন রোগী

সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর হাসপাতালটিতে নতুন রোগী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। জরুরি বিভাগও সেবা দিচ্ছে না। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক মানুষ ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

অন্যদিকে আগে থেকে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বজনদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, হাসপাতাল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে চলমান চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে।

রোগীদের স্বজনদের উদ্বেগ

দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অনেক রোগীর পরিবার বলছে, হঠাৎ অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

এক নবজাতকের অভিভাবক জানান, সন্তানের জটিল অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘদিন ধরে এই হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। এখন নতুন করে অন্য কোথাও চিকিৎসা শুরু করা অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে বড় চাপের বিষয়।

একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিয়মিত ডায়ালাইসিস গ্রহণকারী রোগীদের স্বজনরাও। তাঁদের মতে, কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া সহজ নয়।

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর পর তদন্ত

গত মাসে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিখিত জবাব দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।

আইনি পথে এগোচ্ছে হাসপাতাল

আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তারা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে।

ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সরকারের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম সীমিত করেছে। তবে হাসপাতালের সেবা অব্যাহত রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হবে।

কর্তৃপক্ষের আশা, আপিলের পর বিষয়টি নতুনভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় হাসপাতালের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এদিকে রোগী ও তাঁদের স্বজনরা দ্রুত একটি সমাধানের প্রত্যাশা করছেন, যাতে চলমান চিকিৎসাসেবা ব্যাহত না হয় এবং গুরুতর রোগীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে না পড়েন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স