ঢাকা

বিএনপি সরকারের ইতিবাচক কাজ নিয়ে মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, দেশের গণমাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যেভাবে গুরুত্ব পায়, বিএনপি সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড সেইভাবে তুলে ধরা হয় না।

তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তা দ্রুত শিরোনাম হয়, কিন্তু সরকারের উন্নয়ন বা ভালো উদ্যোগগুলো অনেক সময় যথাযথভাবে প্রচার পায় না।

মঙ্গলবার (১৬ জুন ২০২৬) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস (বিএজে)।

‘নেগেটিভ নিউজ বেশি গুরুত্ব পায়’—প্রতিমন্ত্রী

প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, “আমরা দেখি, কোনো ইউনিয়ন বা উপজেলার ছোট একটি ঘটনায়—যেখানে বিএনপির কোনো কর্মী জড়িত—সেটি হেডলাইন নিউজ হয়ে যায়। কিন্তু ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হলে সেটি অনেক সময় মিডিয়ার নজরে আসে না।”

তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের ইতিবাচক কার্যক্রমও সমানভাবে তুলে ধরা উচিত, যাতে জনগণ দেশের উন্নয়ন সম্পর্কে ভারসাম্যপূর্ণ ধারণা পায়।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের দায়িত্ব রয়েছে দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার ক্ষেত্রে, যাতে জনগণ সঠিক তথ্য পায়।

গণমাধ্যমে ভারসাম্যের আহ্বান

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির দিকগুলো তুলে ধরলে জনগণ বুঝতে পারবে যে ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির অধীনেও ইতিবাচক কাজ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেক সময় মালিকানাগত প্রভাবের কারণে কিছু গণমাধ্যমে সরকারের ইতিবাচক সংবাদ যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না।

গণমাধ্যমের মালিকানা নিয়েও মন্তব্য

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মালিক অতীতে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি বলেন, এ কারণে গণমাধ্যমের অভ্যন্তরে নিরপেক্ষতা ও ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে সাংবাদিকদের উচিত সাহসী ভূমিকা রেখে সত্য তুলে ধরা।

তিনি ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ ও উন্নয়নের স্বার্থে গণমাধ্যম ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

মূল প্রবন্ধ ও আলোচকদের বক্তব্য

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল লতিফ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমে গভীর আত্মসমালোচনার সময় এসেছে। মালিকানার রাজনীতি দূর করা, কালো আইন বাতিল এবং সম্পাদকীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি।

তার মতে, সাংবাদিকতার প্রধান দায়িত্ব হলো সত্য ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা।

‘মিডিয়া অলিগার্কদের নিয়ন্ত্রণে’—মাহমুদুর রহমান

প্রধান আলোচক দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের অনেক গণমাধ্যম মুষ্টিমেয় কিন্তু অত্যন্ত ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তিনি এসব মালিকদের ‘অলিগার্ক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তাদের স্বার্থ রক্ষার বাইরে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অনেক সময় সীমিত হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে এই কাঠামোগত সমস্যা মোকাবিলা করা জরুরি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন যারা

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টসের (বিএজে) সভাপতি এম আবদুল্লাহ।

এছাড়া বক্তব্য দেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি শাহীন হাসনাত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার ফরিদ আহমেদ, আরটিভির বার্তা প্রধান ইলিয়াস হোসেন, সাংবাদিক নেতা জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল উদ্দিন সবুজসহ অনেকে।

বক্তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নৈতিকতা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স